ভোলার পরান তালুকদার বাড়ির বিএনপি নেতা মাসুম তালুকদারের বিরুদ্ধে নিজের ওয়ারিশসহ সাধারণ মানুষের ভূমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসন ও দুদকের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি।
ভোলা সদর উপজেলা, বাপ্পা ইউনিয়ন —
ভোলার ঐতিহ্যবাহী পরান তালুকদার জমিদার বাড়ির উত্তরাধিকারী এবং বিএনপির নেতা মাসুম তালুকদারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ভূমিদখল, নকল কাগজ তৈরি, প্রতারণা এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন এই ছাত্রকে স্থানীয়রা ‘শিয়ালের মতো দূরদর্শী ও চতুর’ বলে উল্লেখ করেছেন।
জমির কাগজপত্র আত্মসাৎ করে পরিবার নিঃস্ব করার অভিযোগ
সূত্র মতে, পরান তালুকদার বাড়ির সমস্ত জমির মূল কাগজপত্র মাসুম তালুকদারের হেফাজতে ছিল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি অন্যান্য ওয়ারিশদের বিভ্রান্ত করে তাদের জমি নিজের দখলে নিয়েছেন। জমি বণ্টনের দায়িত্বে থেকেও পরিবারের সদস্যদের ঠকিয়েছেন — যেন ‘শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা’র মত অবস্থা।
মাসুম তালুকদার নানা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন সময়ে পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের জমি হাতিয়ে নিয়েছেন। একে একে পরিবারগুলিকে নিঃস্ব করে, তিনি নিজে এখন কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক।
ভয়ের সংস্কৃতি ও দুর্নীতির বিস্তার
পরিবারের কারও মধ্যে তার বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলার সাহস নেই। কারণ, তিনি অত্যন্ত চালাক এবং দুর্দান্তভাবে নিজেকে আড়াল করতে সক্ষম। তার প্রভাবে এলাকার অনেক আমিন ও ভূমি কর্মকর্তা তার ইশারায় চলে, যা তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় মাসুম তালুকদারের ভূমি দখলের প্রক্রিয়া আরও জোরালোভাবে চলছে। নকল দলিল বানানো, সরকারি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করা এবং নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ ঢেকে রাখাই তার পুরোনো অভ্যাস।
সাবেক সচিবের পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম
জানা যায়, সাবেক সচিব এম মোকামাল হক তার চাচা — এই পরিচয় ব্যবহার করে মাসুম তার কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, নচেত তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ ভূমিদস্যুদের একজন হয়ে উঠবেন।
জনসচেতনতা ও প্রতিরোধের আহ্বান:
স্থানীয়রা মাসুম তালুকদারের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দ্রুত তদন্ত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ ছাড়া এই ধরনের ভূমিদস্যুতা রোধ করা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।
