প্রায় দুই বছর ধরে লাল তালিকায় বাংলাদেশ
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে আবারও স্পষ্ট হলো, বাংলাদেশ এখনও খাদ্য মূল্যস্ফীতির উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশ লাল শ্রেণিতে অবস্থান করছে, যা অর্থনৈতিক চাপের একটি বড় ইঙ্গিত।
প্রতি ছয় মাস অন্তর বিশ্বব্যাংক খাদ্য নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে ১৭২টি দেশের মধ্যে ১৫টি দেশকে লাল তালিকায় রাখা হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।
কোন কোন দেশ রয়েছে লাল শ্রেণিতে?
বাংলাদেশ ছাড়াও যেসব দেশ এই তালিকায় রয়েছে:
কঙ্গো, অ্যাঙ্গোলা, ইথিওপিয়া, গাম্বিয়া, গিনি, মাদাগাস্কার, ঘানা, ভারত, লাওস, লেসেথো, তিউনিসিয়া, জাম্বিয়া, বেলারুশ ও রাশিয়া।
বিশ্বব্যাংকের শ্রেণিবিন্যাস
বিশ্বব্যাংক খাদ্য মূল্যস্ফীতি বিশ্লেষণে দেশগুলোকে চারটি ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করেছে:
- বেগুনি শ্রেণি: মূল্যস্ফীতি ৩০% বা তার বেশি — যেমন: মালাওয়ি, দক্ষিণ সুদান, হাইতি, মিয়ানমার, আর্জেন্টিনা ও তুরস্ক।
- লাল শ্রেণি: মূল্যস্ফীতি ৫% থেকে ৩০% এর মধ্যে — যেমন বাংলাদেশ।
- হলুদ শ্রেণি: মূল্যস্ফীতি ২% থেকে ৫% এর মধ্যে।
- সবুজ শ্রেণি: মূল্যস্ফীতি ২% এর নিচে — যেমন: সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, সৌদি আরব, ম্যাকাও, চীন, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড ও বেনিন।
বাংলাদেশে চলমান মূল্যস্ফীতির চিত্র
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত গত এক বছরে গড় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
বিশেষ করে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে এই হার দাঁড়ায় ১৪.১০ শতাংশে — যা ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা ১০ মাস খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে ছিল। যদিও ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে তা কিছুটা কমে এক অঙ্কে নামে।
বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্যের প্রভাব
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির পর কৃষিপণ্য, শস্য ও খাদ্যদ্রব্যের আন্তর্জাতিক দাম ৪ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমলেও সামনে আবার মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ভুট্টার দাম ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যদিও চালের দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
