ইউনুস সরকারের নৈরাজ্য ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ধসে পড়ছে শিল্পখাত। বন্ধ হয়েছে ৫০টি কারখানা, থেমে গেছে শতাধিক নতুন বিনিয়োগ। বিশ্লেষকরা বলছেন—এটি পরিকল্পিত দুর্নীতি ও ব্যর্থতার ফল।
ঢাকা, এপ্রিল ২০২৫ — দেশের শিল্প খাত ভয়াবহ অস্তিত্ব সংকটে। চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, লাগামহীন দাম বৃদ্ধি এবং ইউনুস সরকারের নৈরাজ্যপূর্ণ অব্যবস্থাপনায় বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৫০টি শিল্প কারখানা। বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে শত শত নতুন বিনিয়োগ প্রকল্প।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট পরিকল্পিত এবং এর পেছনে রয়েছে সরকারে বসে থাকা একটি অদক্ষ, দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর কৌশলগত ব্যর্থতা।
গ্যাস-বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি: বিনিয়োগকারীদের জন্য মরণফাঁদ
২০২৩ সালে গ্যাসের দাম ১৭৮% এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলেই আবার ৩৩% বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যুতের দাম গত ১৪ বছরে বেড়েছে ৯ বার। অথচ এর কোনোটির সাপ্লাই নিশ্চিত হয়নি। শিল্প অঞ্চলে এখন নিরবতা, ধ্বংস আর বন্ধ ঘূর্ণিচাকা।
চট্টগ্রামে অন্তত ৬২% ইস্পাত কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ঢাকায় বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৫০টি গার্মেন্টস কারখানা। বিনিয়োগ স্থগিত হয়েছে মিরসরাই ইকোনমিক জোন, সাদ মুসা শিল্প পার্কসহ বহু স্থানে। রড, সিমেন্ট, ইউরিয়া সারের উৎপাদন ভেঙে পড়েছে, যা দেশের মুদ্রাস্ফীতি ও নির্মাণ খাতের জন্য ভয়াবহ বার্তা।
শিল্পনেতাদের হুঁশিয়ারি: ‘এভাবে চলতে থাকলে রপ্তানি ধসে পড়বে’
জিপিএইচ ইস্পাতের এমডি আলমাস শিমুল বলেন, “এই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কোনো দায়ভার সরকার নিচ্ছে না। আমরা নিজেদের চাকা চালাতে পারছি না।”
বিজিএমইএ পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, “এই সরকার আমাদের শিল্প ও রপ্তানি খাতকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়েছে।”
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস: বাংলাদেশকে সামনে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হতে হবে
বিশ্লেষকরা বলছেন, “ইউনুস সরকারের অদক্ষতা এবং অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ দ্রুত শিল্প-অবসানের পথে যাচ্ছে।” বিনিয়োগ বন্ধ হলে কর্মসংস্থান কমবে, আর তাতে বেড়ে যাবে বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি।
তাদের মতে, এই সংকট এখনই সমাধান না করা হলে ২০২৫ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে এক নতুন অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
