সম্প্রতি আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থাকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দিয়েছেন। তবে এই মন্তব্যের ব্যাখ্যায় তার দুর্বল ও বিভ্রান্তিকর অবস্থান আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হয় ২৭ এপ্রিল, শিরোনাম ছিল “Muhammad Yunus: Real Reform or Just a New Ruling Class in Bangladesh?”
সাক্ষাৎকারে কী বললেন ইউনূস?
আল জাজিরার প্রশ্ন ছিল, “এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের পর আপনি কেমন নেতৃত্ব চান?” উত্তরে ড. ইউনূস বলেন, “আমি চাই না আমরা আবার ফ্যাসিবাদী শাসনের কাছে ফিরে যাই। আমি চাই এমন নেতৃত্ব যেখানে অর্থনৈতিক লুটপাট, মানবাধিকার লঙ্ঘন থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ব্যক্তি নির্ভর নয়, প্রক্রিয়া নির্ভর রাষ্ট্র চাই।”
কিন্তু আল জাজিরার সাংবাদিক যখন সরাসরি ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা চান, তখন ইউনূসের ভঙ্গি ছিল অস্বস্তিকর। তিনি বলেন, “ছাত্রদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতা, অধিকার হরণ ও বিচার ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ — এসবই ফ্যাসিবাদের নমুনা।”
মন্তব্যের সমালোচনা ও বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূস ফ্যাসিবাদ শব্দটি ব্যবহার করলেও তার ব্যাখ্যা ছিল অতিমাত্রায় দুর্বল এবং পক্ষপাতদুষ্ট।
ফ্যাসিবাদের কোনো সর্বজনীন সংজ্ঞা না থাকলেও, Alberto Toscano এর “Late Fascism: Race, Capitalism and the Politics of Crisis” বই অনুসারে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার মধ্যে থাকা দরকার কঠোর পার্টি রেজিমেন্টেশন, কড়া নেটওয়ার্কিং এবং আদর্শগত শৃঙ্খলা — যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেখা যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার শাসন “Developmental Democracy” বা “Competitive Authoritarianism” এর সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে রাজনৈতিক আধিপত্য থাকলেও তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যের মাধ্যমে পরিচালিত।
একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান?
ড. ইউনূসের এমন মন্তব্যকে অনেকেই দেখছেন “জুডিশিয়াল কিলিং” এর আন্তর্জাতিক ভিত্তি গঠনের অংশ হিসেবে। শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে তাঁর সরকার ও আওয়ামী লীগকে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিতর্কিত করা এবং ৭১’ এর মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী শক্তিকে নৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলেও বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।
পাঠকদের জন্য লিংক:
আল–জাজিরা সাক্ষাৎকার ➤ https://shorturl.at/WoLeY
Late Fascism বই ➤ https://shorturl.at/c3Xne
