আজকের বৈশ্বিক রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ একটি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হতে চলেছে। জাতিসংঘের প্রস্তাবে বাংলাদেশে ‘মানবিক করিডোর’ গঠনের বিষয়টি অনেকেই মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, ভেতরে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর একটি ভূ-রাজনৈতিক ফাঁদ।
পাক-ভারত উত্তেজনা, মিয়ানমারে সংঘাত, আর রোহিঙ্গা সংকটকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলো এ অঞ্চলে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এই করিডোরটি ভবিষ্যতে হয়ে উঠতে পারে একটি তথাকথিত “খ্রিস্টান প্রোটেকটেড জোন”, যা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ কৌশলে ছিনিয়ে নেওয়ার রূপকল্পে পরিণত হবে।
১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবিক করিডোরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি ছিল, “বাংলার মানুষ না খেয়ে মরবে, তবুও এক ইঞ্চি জমি ছাড়বে না।” অথচ আজ, দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা অরাজনৈতিক একটি নিযুক্ত সরকার কিভাবে এমন একটি প্রস্তাব মেনে নেয়—এটি প্রশ্নবিদ্ধ।
রাজনৈতিক দলগুলোর নিরবতা কি সম্মতির সমান?
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে আজ রাজনীতিবিদদের একসঙ্গে কণ্ঠ তুলতে দেখা যাচ্ছে না। যে জাতি ১৯৭১-এ স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে, আজ কেন তারা একটি “মানবিক করিডোর” নামে ভূখণ্ড হারানোর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে? রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত এখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় এগিয়ে আসা।
✅ শেষ কথা:
এটি মানবিক করিডোর নয়, এটি একটি আগ্রাসী করিডোর। এখনই সময় রুখে দাঁড়ানোর। দেশের সমুদ্র অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব ভূখণ্ড বাঁচাতে জাতীয় ঐক্য গঠন অপরিহার্য।
