৮ মে ২০২৫ | মতামত ও সমাজ | প্রতিবেদক: তানভীর হোসেন
বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—বিচার চাইতেও এখন মানুষ নিরাপদ নয়। আদালতের বারান্দা, থানা, প্রেসক্লাব কিংবা মানববন্ধনের প্ল্যাটফর্ম—সব জায়গাতেই সাধারণ মানুষ হামলার শিকার হচ্ছেন। রাষ্ট্রযন্ত্র যেন এখন অভিযোগকারী নয়, বরং অভিযোগ করাকেই অপরাধ বানিয়ে তুলেছে।
⚖️ বিচার চাইতে গিয়ে হামলার শিকার—নতুন স্বাভাবিকতা?
সম্প্রতি কক্সবাজার, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের বিচারের দাবিতে করা মানববন্ধনে দেখা গেছে—সেখানেও সন্ত্রাসী হামলা, প্রশাসনের হয়রানি, এমনকি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ যদি মুখ খোলে, তাহলে তার বিরুদ্ধে লেগে যায় পুরো প্রশাসনিক কাঠামো।
একজন নারী যিনি তার ভাইয়ের গুমের বিচার চাইতে থানায় গিয়েছিলেন, বলেছেন:
“আমার ভাই গুম হয়েছে। আমি মামলা করতে গেলে উল্টো আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকেই আসামি বানানো হয়েছে।”
এই কথাগুলো শুধু কোনো ব্যক্তির নয়, বরং সমগ্র বিচার ব্যবস্থার নির্লজ্জ ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
🚨 রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও রাষ্ট্রীয় মদদে হামলা
এই চিত্র কেবল বিচারহীনতা নয়, এটি এক ভয়ংকর রাজনৈতিক দমন-পীড়নের নকশা। যারা:
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে,
- বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে,
- মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে,
তাদেরকে হামলা-মামলার মাধ্যমে চুপ করানো হচ্ছে। যেন রাষ্ট্রের নতুন বার্তা—”বিচার চাইলেই তুমি অপরাধী।”
❓ এ কোন রাষ্ট্রব্যবস্থা?
যেখানে আইন আছে, আদালত আছে, মানবাধিকার কমিশন আছে—সেখানে যদি বিচার চাইতেও সাধারণ মানুষ জুলুমের শিকার হন, তাহলে সেটি কি আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র থাকে? নাকি এটি একটি দমনমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার ইঙ্গিত, যেখানে:
- প্রশাসন হয়রানির হাতিয়ার,
- আদালত রাজনৈতিক হাতিয়ার,
- আর নিরাপত্তা বাহিনী হয় নিঃক্রিয়, নয়তো পক্ষপাতদুষ্ট।
🛑 রাষ্ট্রের নীরবতা কি অপরাধে সহযোগিতা?
প্রতিটি হামলার পর রাষ্ট্র নীরব। এ নীরবতা কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, না ইচ্ছাকৃত সহযোগিতা? এটা যদি পরিকল্পিত হয়, তাহলে এটি সরাসরি সংবিধান ও নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? তারা যদি:
- থানায় নিরাপদ না থাকে,
- আদালতে বিচার না পায়,
- মানববন্ধনেও হামলার শিকার হয়,
তবে তারা কি রাষ্ট্রচ্যুত নয়?
🔚 উপসংহার: রাষ্ট্র যদি শত্রু হয়ে দাঁড়ায়
আজ বাংলাদেশের বিচারপ্রার্থী নাগরিকরা নিজেদের রাষ্ট্রহীন মনে করছেন। তারা চায় ন্যায্যতা, তারা চায় জবাবদিহিতা। কিন্তু রাষ্ট্র যেটা দিচ্ছে তা হলো—হুমকি, দমন ও নির্যাতন। এই বাস্তবতা পাল্টাতে হলে প্রতিরোধ, গণজাগরণ এবং সংবিধান রক্ষার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ দরকার।
