কক্সবাজারে সরকারবিরোধী মিছিলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের গ্রেফতার বর্তমান শাসনের দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরছে। ফ্যাসিবাদের বাস্তব চেহারা উন্মোচনের এক গভীর বিশ্লেষণ।
৬ মে দিবাগত রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশের অভিযানে কক্সবাজার পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রলীগ-যুবলীগের তিন নেতা—আনোয়ার শাকিল (২৪), শরীফ হোসাইন (২৭), ও আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা কক্সবাজার জেলা যুবলীগের ব্যানারে একটি সরকারবিরোধী মিছিল সংগঠিত করেছিলেন।
পুলিশ প্রশাসন এই গ্রেফতারকে “আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে নেয়া পদক্ষেপ” হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও, এই ঘটনাকে শুধু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দেখা একরকম সরলীকরণ। বরং এটি দেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে একটি গভীর প্রশ্ন তুলেছে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মিছিল কি অপরাধ?
গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার—শান্তিপূর্ণ মিছিল, সভা-সমাবেশ তারই অংশ। অথচ আজকের বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনা করলেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উপর নেমে আসছে দমনপীড়ন, মিথ্যা মামলা এবং পুলিশের মাধ্যমে গ্রেফতার। এই গ্রেফতার তিনজন রাজনৈতিক কর্মীর নয়—এটি প্রতীকী; যা প্রতিটি স্বাধীনচেতা কণ্ঠস্বরকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নিঃশব্দ করার প্রচেষ্টা।
“ইউনুস বাহিনী” ও রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদের উত্থান
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে 'ইউনুস বাহিনী' নামে পরিচিত একটি রাজনৈতিক বলয় দমন-পীড়নের প্রধান নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয়েছে। এরা সরকারি মদদে পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিরোধী মতাবলম্বীদের নির্যাতন করে চলেছে। দিনমজুর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ছাত্ররাজনীতির কর্মী থেকে সাংবাদিক—সবাই আজ এক ভয়ঙ্কর মব সংস্কৃতির শিকার।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নীরবতা ও আন্তর্জাতিক জবাবদিহি
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন হোক বা আন্তর্জাতিক সংগঠনসমূহ—এদের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ। এই ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এখন প্রশ্ন উঠছে:
কোথায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ?
কেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে না?
সংবিধান কি শুধুই দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত কাগজপত্র?
বাংলাদেশের সংবিধান সকল নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। তাহলে সরকারবিরোধী মিছিলে অংশগ্রহণ কি সংবিধানবিরোধী? যদি না হয়, তাহলে কেন গ্রেফতার? এর মানে, আজকের বাস্তবতায় সংবিধান কেবল ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
সময় এসেছে প্রশ্ন তোলার
এই কলামের মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায়, কক্সবাজারের তিন যুবনেতার গ্রেফতার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশে চলমান এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের প্রতিফলন। ফ্যাসিবাদ শুধু ইতিহাসের শব্দ নয়—এটি আজকের বাস্তবতা। ইউনুস বাহিনীর নামে পরিচিত রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট গোষ্ঠী যদি এভাবে সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেফতার করে, তাহলে আগামীতে স্বাধীন মতপ্রকাশের আর কোন সুযোগ থাকবে না। এখন সময় এসেছে—জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলকে একযোগে এই ফ্যাসিস্ট প্রবণতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।