পাকিস্তানের হাই কমিশনার সৈয়দ আহম্মেদ মারুফের তিনদিনের কক্সবাজার সফর ঘিরে রহস্য ও কৌতূহল বাড়ছে। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যে এই সফর কতটা কৌশলগত?
সূত্রঃ অবজারভার বাংলা
📅 প্রকাশের তারিখ: 9 May 2025;
পাকিস্তানের হাই কমিশনার সৈয়দ আহম্মেদ মারুফের কক্সবাজার সফর ঘিরে কূটনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চলমান ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে নিছক রুটিন ভ্রমণ হিসেবে দেখছেন না অনেকেই।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের BS-159 ফ্লাইটে তিনি কক্সবাজার পৌঁছান। সঙ্গে ছিলেন একমাত্র সফরসঙ্গী গিয়াসউদ্দিন, যিনি পরিচয় অনুসারে তার গাড়িচালক। তবে তাকে ঘিরে সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি। হাই কমিশনার অবস্থান করছেন উখিয়ার বিলাসবহুল হোটেল সি-পার্লে।
প্রশ্ন উঠছে—কেন এখন?
প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যখন সামরিক উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন পাকিস্তানি কূটনীতিকের হঠাৎ এই কক্সবাজার সফরকে স্বাভাবিক বলতে নারাজ বিশ্লেষকরা। সৈয়দ মারুফ এর আগেও ফেব্রুয়ারিতে এই একই হোটেলে স্ত্রীসহ সফর করেছিলেন, এবার তার সফর 'অফিসিয়াল' হলেও ব্যাখ্যা অস্পষ্ট।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, হাই কমিশনার সফরে এসেছেন এবং তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশের একটি বিশেষ দল। তবে সফরের উদ্দেশ্য বা কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তার গাড়িটি নষ্ট হওয়ায় শুক্রবার তিনি কোথাও যাননি বলেও জানা গেছে।
ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দুর্জয় সরকার জানান, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত হাই কমিশনার হোটেলেই অবস্থান করছিলেন এবং শনিবার হোটেল ত্যাগের কথা রয়েছে।
ভিন্ন মাত্রা:
প্রাপ্ত এক সফর কাগজে সফরসঙ্গী গিয়াসউদ্দিনের নাম ও একটি মোবাইল নাম্বার পাওয়া গেলেও সেটি বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য মেলেনি। ফলে তার পরিচয় ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজার, যা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দৃষ্টি-আকৃষ্ট এলাকা হিসেবে পরিচিত, সেখানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের নিয়মিত আগমন অনেক বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা বহন করে। বিশেষ করে যখন বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে সরকারিভাবে কিছু জানানো না হলেও সময়, স্থান ও প্রেক্ষাপটের প্রেক্ষিতে এটি নিছক কূটনৈতিক রুটিন নয় বলেই ধারণা করা যায়। কক্সবাজার সফর ও সফরসঙ্গীদের পরিচয় যতদিন অস্পষ্ট থাকবে, ততদিন এই সফর নিয়ে প্রশ্নও থাকবেই।
