বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনারের নারী কেলেঙ্কারি ও জামায়াত-ARSA বৈঠক নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তোলপাড়।

গত ১১ মে ২০২৫ পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ ‘ছুটি’র অজুহাতে হঠাৎ বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। গন্তব্য ছিল ইসলামাবাদ, কিন্তু গন্তব্যের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই ‘ছুটি’র পেছনের কারণ। কক্সবাজারের এক হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তরুণী সহকারী পরিচালকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার গুঞ্জন এখন শুধু কেলেঙ্কারির খবর নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক গভীর ইঙ্গিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারে অবস্থানকালে হাইকমিশনার জামায়াত-ই-ইসলামী এবং রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ARSA-এর সদস্যদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেন। এটি নিছক কাকতালীয় হতে পারে না। একজন শীর্ষ কূটনীতিকের এ ধরনের যোগাযোগ এবং 'ডিপ্লোম্যাটিক প্রটোকল' ভেঙে সাধারণ পোশাকে দেশ ত্যাগ—এসব মিলিয়ে বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত ব্যভিচার নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ঘনঘোর ছায়া ফেলছে।
পাকিস্তানি হাইকমিশনার মারুফ আগেও রাজশাহীতে ‘জোড়া টিকিটে’ সফরের অভিযোগে আলোচনায় ছিলেন। একটি সূত্রে জানা যায়, হাফিজা হক শাহ নামের এক নারীর সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে, যিনি বিভিন্ন সময় তার সফরসঙ্গী ছিলেন। এ ধরনের সফরগুলো কেবল রোমান্টিক নিঃসঙ্গতা দূর করার প্রয়াস, নাকি এর পেছনে রাষ্ট্রবিরোধী মিশন ছিল—তা এখন নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনরত কূটনীতিকরা সাধারণত বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। কিন্তু যখন সেই মর্যাদার আড়ালে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ সংঘটিত হয়, তখন প্রয়োজন কঠোর নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া। পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের সম্পর্ক জটিল। তাই এ ধরনের ঘটনাগুলো নিছক স্ক্যান্ডাল নয়, বরং গভীর মনোযোগের দাবি রাখে।
১. হাইকমিশনারের আচরণের নিরপেক্ষ তদন্ত
২. সংশ্লিষ্ট হোটেল ও সফরের সব সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য সংগ্রহ
৩. জামায়াত ও রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট বৈঠকের সত্যতা যাচাই
৪. বিদেশি কূটনীতিকদের গমনাগমন ও আচরণে ডিজিটাল নজরদারির ব্যবস্থা
এই ঘটনার মাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ কি কেবল দায়সারা 'নোট অব কনসার্ন' দিয়ে দায় এড়িয়ে যাবে, নাকি ভবিষ্যতের নিরাপত্তার স্বার্থে একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেবে? হাইকমিশনার মারুফের ঘটনা কেবল একটি কেলেঙ্কারির গল্প নয়; এটি কূটনৈতিক দায়বদ্ধতা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক সম্পর্কের নতুন করে ভাবনার সুযোগ এনে দিয়েছে।
