
সরকারি শুদ্ধি অভিযানের আড়ালে কর বৈষম্য ও রাজনৈতিক অপারেশন চালিত হচ্ছে ‘জুলাই’ নামক গোপন মেশিনের মাধ্যমে। এই বৈপরীত্য কি জনগণকে বোকা ভাবার একটি প্রণালী?
বাংলাদেশে সময় যতই এগোয়, শাসনের ধরণ ততটাই বৈষম্য ও রাজনৈতিক অপারেশন চালিত হচ্ছে। সম্প্রতি ‘জুলাই’ নামক একটি কল্পিত মেশিনের ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক বৃত্তে। এটি নেহায়েত একটি রূপক – একটি গোপন ব্যবস্থার প্রতীক – যার মাধ্যমে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই ‘মেশিনে’ জনগণ কেবল জ্বালানি, আর অপারেটর হিসেবে দেখা যাচ্ছে এমন এক ব্যক্তিকে যিনি নোবেল জয়ী, অথচ আজ বিতর্কিত – প্রফেসর ইউনুস।
এখানে প্রশ্ন ওঠে এই যান্ত্রিক বাস্তবতায় গণমানুষের ভূমিকা কোথায়?
বর্তমানে দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় পরিসরের শুদ্ধি অভিযান চলছে। অনেক প্রভাবশালী গ্রেপ্তার হচ্ছেন, মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। কিন্তু এর ফাঁকে চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে বড় এক বৈপরীত্য—গ্রামীণ টেলিকমের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ।
এই মওকুফ নিয়ে কেউ কথা বলে না, প্রশ্ন তোলে না। গণমাধ্যম নিশ্চুপ, সরকারের অবস্থান নিরব। অথচ বাজেট ঘাটতির সময় বলা হয়—‘জনগণের জন্য ত্যাগ দরকার’।
আমাদের নীতিনির্ধারকরা যখন জনগণের জন্য ত্যাগ চায়, তখন তারা ধনিক শ্রেণীর জন্য কর ছাড়কে ‘উন্নয়ন বান্ধব’ পদক্ষেপ বলে চিত্রায়িত করেন। ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে সাধারণ জনগণকে কেবল করের বোঝা বহন করতে হয়।
এই বৈপরীত্য আমাদের বুঝিয়ে দেয়—দেশপ্রেম একটি শ্রেণীগত ধারণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘জুলাই’ মেশিনের ধারণা আসলে এই বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি যেখানে শাসন চলে গোপন এজেন্ডা ও রাজনৈতিক সুবিধার উপর ভিত্তি করে। জনমতের বাস্তব প্রতিফলন সেখানে অনুপস্থিত। তাই প্রশ্ন ওঠে: এই কৌশল কি জনগণকে বোকা বানানোরই আরেক রূপ?
‘জুলাই’ থেকে মুক্তির পথ কোথায়?
আমরা যদি সত্যিকার অর্থে জনগণকেন্দ্রিক একটি রাষ্ট্র চাই, তবে আমাদের শাসনের স্বচ্ছতা, করনীতির ন্যায়বিচার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। কল্পিত ‘জুলাই’ মেশিনের বিরুদ্ধে লড়াই মানে কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়—এটি একটি চেতনার বিপ্লব।
