আওয়ামী লীগের পক্ষে অনলাইনে মন্তব্য করলেই যদি গ্রেপ্তার বা হুমকি আসে, তবে আসল ফ্যাসিস্ট কারা? মতপ্রকাশের অধিকার হরণ কি নতুন স্বৈরতন্ত্রের শুরু?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন এক অদ্ভুত বাস্তবতার মুখোমুখি। যখনই কেউ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বা তার কোনো কর্মকাণ্ডের পক্ষে মন্তব্য করেন—সাথে সাথে জুটে যাচ্ছে গ্রেপ্তার বা হুমকি বা হয়রানির ভয়।
প্রশ্ন উঠছে—এটা কি নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদ? নাকি রাষ্ট্রযন্ত্র এখন এমন এক ক্ষমতার ইশারায় চলছে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও “অনুমতির অপেক্ষায়”?
🔍 গ্রেপ্তার হুমকি: একাধিক অভিযোগ
সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব বা বিভিন্ন ফোরামে আওয়ামী লীগের পক্ষে মন্তব্য করা বেশ কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিকভাবে হুমকির মুখে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন বা বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী সেই কমেন্ট বা স্ট্যাটাসকে 'উস্কানিমূলক' বলে দাবি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ব্যবস্থা নিতে চেয়েছে।
🤔 তাহলে ফ্যাসিস্ট কারা?
যদি ক্ষমতায় থাকা দলকে সমর্থন করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধে পরিণত হয়, তাহলে গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? এই পরিস্থিতি দেখে অনেকে বলছেন—“ফ্যাসিবাদ শুধু বিরোধী মত দমন করে না, নিজের পক্ষেও ভয় সৃষ্টি করে।”
তাহলে আসল স্বৈরতন্ত্র কারা কায়েম করছে?
- মতপ্রকাশকে অপরাধ হিসেবে দেখানো
- সমর্থকদের মুখ বন্ধ রাখার ভয়ভীতি
- সামাজিক লিঞ্চিং ও প্রশাসনিক হয়রানি
এগুলোই কি ফ্যাসিজমের আধুনিক রূপ নয়?
🗣️ রাজনীতিতে মতের স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র মৃত
একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপ্রকাশের অধিকার সর্বজনীন—তা সরকারপন্থী হোক বা বিরোধীপন্থী। আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বললে যদি আতঙ্কে থাকতে হয়, তাহলে বিরোধীদের অবস্থা অনুমান করা কঠিন নয়।
রাজনীতিতে দ্বিমত থাকবে, মতপার্থক্য থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মতপ্রকাশের জন্য যদি গ্রেপ্তারের হুমকি দিতে হয়, তাহলে প্রশ্ন তোলা যায়—গণতন্ত্র বেঁচে আছে তো?
তাহলে প্রশ্ন রাখাই যায়—ফ্যাসিস্ট আসলে কারা? আর রাষ্ট্র চালাচ্ছে কারা
