ঢাকার খিলগাঁও থেকে উদ্ধার হওয়া ৭.৬২ বোরের গুলি ও অস্ত্র নিয়ে ছাত্র আন্দোলনের পুরনো প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। তদন্তে প্রমাণ হলে এর প্রভাব রাজনীতিতেও পড়বে।

ঢাকার খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকায় এক পরিত্যক্ত শপিং ব্যাগ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি আবারো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গতকাল (১৬ মে ২০২৫) বিকেলে রামপুরা থানা পুলিশের অভিযানে যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ‘Made in USA’ লেখা দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার, তিনটি ম্যাগাজিন, ৭.৬২ বোরের চায়নিজ রাইফেলের ১০ রাউন্ড গুলি এবং শটগানের সাতটি রাবার বুলেট।
এই উদ্ধার সাধারণ কোনও ঘটনা নয়। কারণ, উদ্ধার হওয়া গুলির সঙ্গে গত বছরের জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত গুলির মিল রয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। আর এখানেই ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া ছাত্র আন্দোলন শুধু একটি শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছিল না— সেটি ছিল সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও দমনমূলক আচরণের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী বিদ্রোহ। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছিলেন যে, সরকারপন্থী বাহিনী ও পুলিশের গুলিতে বেশ কিছু ছাত্র আহত ও নিহত হন, এবং এসব গুলির মধ্যে ৭.৬২ বোরের রাইফেলের গুলিও ছিল।
সেই প্রেক্ষাপটে খিলগাঁওয়ে এ ধরনের গুলির পুনরুদ্ধার আরও বড় প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে—
❝এই অস্ত্রগুলো কী আসলেই জুলাইয়ের সহিংসতায় ব্যবহৃত হয়েছিল?❞
❝কারা এগুলো রেখে গেল এবং কেন?❞
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে যখন সেই অস্ত্র অতীতের আন্দোলনের দমনপন্থার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হয়।
সচেতন নাগরিক মহলের দাবি—
“স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এই ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন হবে না। তদন্ত যেন কোন রাজনৈতিক চাপের মুখে পথ হারিয়ে না ফেলে।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও আতঙ্কিত। তারা মনে করছেন, এই ঘটনার ফলে রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে যদি কেউ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।
রামপুরা থানা জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গুলির উৎস শনাক্ত এবং দায়ীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য অস্ত্রগুলো ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে— তদন্ত কতদূর নিরপেক্ষ হবে? এবং ঠিক কীভাবে এই অস্ত্র-গুলি পরিত্যক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখা হলো?
খিলগাঁওয়ের এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা যদি সত্যিই জুলাই আন্দোলনের দমনকৌশলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তবে সেটি জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার— উভয়ের জন্যই অশনিসংকেত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই অনেকে বলছেন—
“এই ধরনের অস্ত্র কোথা থেকে আসে, কে ব্যবহার করে, কী উদ্দেশ্যে ফেলে রাখা হয়— এসব প্রশ্নের সদুত্তর চাই।”
খিলগাঁওয়ের অস্ত্র উদ্ধার ঘটনাটি শুধু একটি আইন-শৃঙ্খলার খবর নয়, এটি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাসের এক অনিচ্ছিত পুনরাবৃত্তি। পুলিশি তদন্তে যদি সত্যিই প্রমাণিত হয় যে এসব অস্ত্র-গুলি আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত হয়েছিল, তবে সেটি জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন তুলবে।
এইবার ইতিহাস শুধু চোখে দেখবে না, জবাবও চাইবে।
