বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব দেশের সার্বভৌমত্ব, নির্বাচন ও মানবিক করিডোর ইস্যুতে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রত্যাশিত হলেও, বাস্তবে তা হয়নি। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব, বিশেষ করে নির্বাচন ও মানবিক করিডোর ইস্যুতে, দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
জেনারেল ওয়াকার দ্রুত নির্বাচন ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আগে মানবিক করিডোর স্থাপনে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক চাপের মুখে করিডোর বাস্তবায়নে আগ্রহী। এই মতবিরোধের ফলে ইউনূস সেনাপ্রধানকে অপসারণের চেষ্টা করেন, যা ব্যর্থ হয়। সেনাপ্রধানের প্রতি সেনাবাহিনীর সমর্থন এই প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করে।
চট্টগ্রাম-রাখাইন করিডোর স্থাপন আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার আড়ালে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হতে পারে। সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা দেখায়, এমন করিডোর বিদেশি হস্তক্ষেপের পথ খুলে দেয়।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার করিডোর বাস্তবায়নে আগ্রহী হলেও, সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলো এর বিরোধিতা করছে। বিএনপি, সিপিবি ও জামায়াতে ইসলামী করিডোরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপি ও অন্যান্য সরকারঘনিষ্ঠ দলগুলো নীরব রয়েছে।
ড. ইউনূস সেনাপ্রধান ওয়াকারকে অপসারণের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব পাঠান, যা সেনাবাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে। সেনাপ্রধানের প্রতি সেনাবাহিনীর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন এই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে।
সেনাপ্রধান ওয়াকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক চাপের মুখে করিডোর বাস্তবায়নে আগ্রহী। এই দ্বন্দ্ব বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে।
“জনগণের ভয় নাই, আমাদের আছেন ওয়াকার ভাই”—এই স্লোগান শুধু একটি বাক্য নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি। সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি সংকটময় সময় পার করছে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
