ডিএসসিসি নগর ভবনের ফটকে তালা, সেবা কার্যক্রম বন্ধ। ইশরাক হোসেনকে শপথ না করানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পদত্যাগ দাবি করছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন এখন আর শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক ভবন নয়—এটি বর্তমানে রাজনৈতিক দাবিদাওয়া ও জনরোষের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা চতুর্থ দিনের মতো নগর ভবনের মূল ফটক ও বিভাগীয় গেট তালাবদ্ধ, যার ফলে জনসেবা কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
🧍 কে হচ্ছেন মেয়র — আদালত না রাজনৈতিক ক্ষমতা?
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে গত মার্চে আদালতের রায়ে বৈধ মেয়র ঘোষণা করা হলেও এখনও তাকে শপথ করানো হয়নি।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ—
“গেজেট প্রকাশের ২০ দিন পার হলেও ইশরাককে শপথ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এটি আদালতের আদেশ অবমাননা।”
এই অবস্থান থেকে তারা বলেন—
“আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো, প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”
🔊 পদত্যাগ চাই: উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে স্লোগান
বিক্ষোভকারীরা এবার কেবল মেয়রের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকছেন না—তারা এখন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগও দাবি করছেন।
তাদের মতে, এই প্রশাসনিক স্থবিরতার মূল বাধা তিনিই।
📌 ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপে:
- ১৮ মে সকাল: বিক্ষোভকারীরা মিছিলসহ নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেন।
- ফটকে তালা: নগর ভবনের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন বিভাগে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
- সেবা কার্যক্রম বন্ধ: সাধারণ সেবাগ্রহীতারা ফিরে যেতে বাধ্য হন।
- উপস্থিতি নেই: উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব নিজের অফিসে আসেননি।
- বিক্ষোভকারীদের স্লোগান: “শপথ শপথ চাই”, “আসিফের পদত্যাগ চাই”, “ইশরাক ভাইয়ের শপথ চাই”।
📚 বিচারিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক বিতর্ক
২০২০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন। তবে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সেই ফলাফল বাতিল করে বিএনপি নেতা ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করা হয়।
এরপর ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে, তবে শপথগ্রহণ এখনো হয়নি।
ইশরাক হোসেন দাবি করেন, “আমি শপথ নিতে প্রস্তুত, কিন্তু সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করছে।”
🧠 বিশ্লেষণ: আদালত বনাম প্রশাসন – সিদ্ধান্তহীনতার শিকার জনগণ
এই সংকট নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসছে:
- আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ও আদালতের রায় কার্যকর হবে, নাকি রাজনৈতিক স্বার্থ অনুযায়ী তা ঝুলিয়ে রাখা হবে?
- একজন নির্বাচিত (বা আদালত কর্তৃক ঘোষিত) জনপ্রতিনিধিকে দায়িত্ব না দিয়ে সিটি করপোরেশনের কাজ বন্ধ রাখলে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কে? উত্তর: সাধারণ মানুষ।
সার্বিকভাবে, এটি একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরীক্ষা, যেখানে প্রশাসন, আদালত ও রাজনীতির ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ডিএসসিসির বর্তমান অবরোধ কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়—এটি জনগণের মৌলিক সেবার অবরোধও বটে। বিক্ষোভকারীরা যেমন রাজনৈতিক দাবি নিয়ে সোচ্চার, তেমনি সরকারের দিক থেকেও কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান দেখা যাচ্ছে না।
এই অচলাবস্থা যত দীর্ঘায়িত হবে, তত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন নগরবাসী এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
