ফেনীর দাগনভূঞায় এক যুবদল নেতার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা ও হামলা চালানোর অভিযোগ। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই দুর্বৃত্তায়নের পেছনের বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের কৌশল্যা গ্রামের পরিবেশ এখন চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। মূল চরিত্র—ইউনিয়ন যুবদল সেক্রেটারি খোরশেদ আলম। দলীয় পরিচয়ের আড়ালে তিনি একাধারে অনৈতিক সম্পর্ক, মাদক, হুমকি ও সহিংসতার মাধ্যমে একটি গোটা জনপদের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতি ভেঙে দিয়েছেন।
যেখানে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তার দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল জনগণের পাশে দাঁড়ানো, সেখানে তিনি নিজেই রূপ নিয়েছেন ত্রাসে। ১৫ মে রাত ১১টার দিকে একটি আপত্তিকর অবস্থায় এক নারীর ঘরে হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।
কিন্তু ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়নি। বরং এখান থেকেই শুরু হয় এক ভয়ঙ্কর পাল্টা আক্রমণের রাজনীতি। ভাইয়ের নেতৃত্বে অস্ত্রধারী গুণ্ডাবাহিনী এনে গ্রামবাসীর উপর হামলা চালানো হয়। এরপর থানায় গিয়ে সাজানো অভিযোগে গ্রামবাসীকে আসামি করে মামলা দেওয়া হয়। যা বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয় দীর্ঘদিন ধরেই।
প্রশ্ন জাগে, এদেশের সাধারণ মানুষ কবে নাগাদ নিজেদের আত্মরক্ষায় দাঁড়াতে পারবে, যখন একজন নারী ও শিশু মারধরের শিকার হয় এবং অপরাধীরা রাজনৈতিক পরিচয়ে পার পেয়ে যায়?
সামছুল আলম, সাহাব উদ্দিন, আনোয়ার হোসেনসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ১৮ মে ফেনী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব ঘটনা তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—একটি দুর্বৃত্তায়িত চক্র কিভাবে পুরো গ্রামকে জিম্মি করে রেখেছে।
এমনকি আট বছরের শিশু ফয়সাল মাহমুদ রিয়ানও তাদের আক্রোশ থেকে রেহাই পায়নি। এই ধরনের সহিংসতা শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য হুমকি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় পুলিশ এখনও অভিযুক্ত খোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এমনকি তার বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। প্রশ্ন হলো, কী কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন এতোটা ধীর?
যদি দলীয় পরিচয় অপরাধীদের রক্ষা করে, তবে আইন কার জন্য? ন্যায়বিচার কাদের জন্য সংরক্ষিত? এই প্রশ্নগুলো আমাদের রাজনীতির সংস্কৃতি ও বিচারব্যবস্থার দুর্বলতাকে নগ্নভাবে প্রকাশ করে।
কৌশল্যা গ্রাম হয়তো একটি ক্ষুদ্র নিদর্শন, কিন্তু সারাদেশেই এই ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। দলীয় প্রভাব, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, মাদক এবং মামলাবাজির সংস্কৃতি রাজনীতিকে কেবল দুর্নীতির আশ্রয়ে পরিণত করেনি, এটি সমাজের মনোবলকেও ধ্বংস করেছে।
এখন সময়—এই দুর্বৃত্তায়ন বন্ধে সমাজ, প্রশাসন ও গণমাধ্যম একসঙ্গে রুখে দাঁড়াক। না হলে আগামীতে আরও অনেক “খোরশেদ”রা তৈরি হবে, যারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন চালাবে।
