বিশেষ প্রতিনিধি: স্বপ্নীল আর্য;
বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান—যিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘রজার রহমান’ নামে পরিচিত—একজন বিদেশি নাগরিক, লবিস্ট এবং পাকিস্তানি ডিপ স্টেটের সহযোগী বলে অভিযোগ উঠেছে। তাহলে কেন তাকে দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল পদে বসানো হলো?
জাতীয় নিরাপত্তায় বিদেশি এজেন্ট?
বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে—দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের নাগরিকই নন। নাম খলিলুর রহমান, তবে যুক্তরাষ্ট্রে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ‘রজার রহমান’ নামে।
জানা গেছে, তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে লবিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন, যার সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা (ISI)-এর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রগুলো দাবি করছে।



ইউনুসের ছায়ায় রজার রহমান
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস পরিচালিত বর্তমান ছদ্ম-সরকারে খলিলুর রহমানের এই নিয়োগ অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্কের ভিত্তিতে ইউনুসের ছত্রছায়ায় রজার রহমান দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল নিরাপত্তা পদে আসীন হয়েছেন বলে জানা যায়।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও স্বচ্ছতা নেই। বরং এটি প্রমাণ করে, বাংলাদেশ আজ ভোটবিহীন প্রযুক্তিবাদী শাসনের আড়ালে বৈশ্বিক লবির হাতে নিয়ন্ত্রিত একটি কর্পোরেট কোলোনিতে পরিণত হয়েছে।
ছদ্মনাম, গোপন পরিচয়, ও রাষ্ট্রীয় বিশ্বাসঘাতকতা
যুক্তরাষ্ট্রে ‘রজার রহমান’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি সম্পর্কে বাংলাদেশের সরকারি কোনো রেকর্ড নেই।
প্রশ্নগুলো আরও জোরালো হয় যখন দেখা যায়—
- তার বাংলাদেশে নাগরিকত্ব থাকার কোনও সদৃশ্য প্রমাণ নেই,
- বিদেশে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এই ব্যক্তি কীভাবে নিরাপত্তা উপদেষ্টা হলেন?
- তার মার্কিন ও পাকিস্তানি সংশ্লিষ্টতা কীভাবে গোপন রাখা হলো?
এইসব প্রশ্ন আমাদের নিয়ে যায় একটি ভয়ের জায়গায়—বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা কি আজ বিদেশি এজেন্ডার হাতে?
জাতীয় স্বার্থ বনাম আন্তর্জাতিক কৌশল
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতো পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির দেশপ্রেম, বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু রজার রহমানের অতীত এবং তার গোপন পরিচয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি এক সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
এই নিয়োগ কাদের নির্দেশে হয়েছে? ইউনুসের বিশ্বায়িত লবির নাকি বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার?
এটি কি একটি পুতুল সরকার?
সরকার যদি জনগণের ভোটে না আসে, তাহলে তাদের শাসন নৈতিক নয়। আর সেই শাসনের নিয়ন্ত্রণ যদি বিদেশি নাগরিক বা লবিস্টদের হাতে থাকে, তাহলে সেটা আর সরকার নয়—একটি দখলদার প্রশাসন।
রজার রহমান সেই দখলদারিত্বের প্রতীক—একজন বিদেশি যিনি দেশের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কাঠামোর উপর বসে আছেন, অথচ তার প্রকৃত পরিচয় আজও অন্ধকারে।
সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে
একটি স্বাধীন দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার নিরাপত্তা কাঠামো। যদি সেটিও আজ নিয়ন্ত্রিত হয় বিদেশি নাগরিক ও কর্পোরেট লবির দ্বারা, তবে জাতির অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
রজার রহমান শুধুই একটি নাম নয়—তিনি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার ভিতরে বসানো এক সাইলেন্ট বোমা।
সূত্র ঃ নর্থ ইষ্ট নিউজ পোর্টাল
https://nenews.in/neighbours/bangladesh-nsa-khalilur-rahman-masked-his-identity-as-roger-rahman-while-living-in-new-york/25554/
