শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন শপথবাক্য থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘শেখ মুজিব’, এবং ‘শহীদের রক্ত’ সংক্রান্ত অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে ব্যাপক বিতর্ক।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাত্যহিক সমাবেশে পাঠ করার জন্য একটি নতুন শপথবাক্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ এবং ‘শহীদদের রক্ত বৃথা না যাওয়ার’ অঙ্গীকারের অংশ।
মুক্তিযুদ্ধ” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ এবং ‘শহীদদের রক্ত বৃথা না যাওয়ার’ অঙ্গীকারের অংশ।
“অন্যায় ও দুর্নীতি করিবো না এবং অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিবো না।”
প্রাক্তন শপথবাক্যে ছিল:
“আমি শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দিবো না। আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করবো এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার করছি।”
এই ঐতিহাসিক অংশগুলো বাদ পড়ায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগাতে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ এবং ‘বঙ্গবন্ধু’ প্রসঙ্গ সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ। এসব বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিহাসবিকৃতি ও জাতীয় ঐতিহ্যের অপমান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেউ কেউ একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত হিসেবেও দেখছেন।
নতুন শপথবাক্যটি এ রকম:
“আমি শপথ করিতেছি যে, মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখিবো। দেশের প্রতি অনুগত থাকিবো। দেশের একতা ও সংহতি বজায় রাখিবার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকিবো। অন্যায় ও দুর্নীতি করিবো না এবং অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিবো না।
হে মহান আল্লাহ/ মহান সৃষ্টিকর্তা, আমাকে শক্তি দিন, আমি যেন বাংলাদেশের সেবা করিতে পারি এবং বাংলাদেশকে একটি আদর্শ, বৈষম্যহীন ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়িয়া তুলিতে পারি। আমিন।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, এটি ‘সাম্যের বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম ও নৈতিকতা শেখানোর অংশ। তবে ইতিহাসবিদ ও মুক্তিযুদ্ধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শপথ থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দেওয়া মানে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে পরোক্ষ প্রশ্রয় দেওয়া।
জাতীয় মূল্যবোধ, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাদ দিয়ে কোনো শিক্ষাগত শপথ বাস্তবিকভাবে প্রজন্ম গঠনের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে না—এই উদ্বেগই এখন প্রধান। শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি উঠতে পারে দেশের নানা মহল থেকে।
