প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়কের স্পষ্ট অভিযোগ—ক্ষমতা দখলের নামে দেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি ও জনগণের অধিকার ধ্বংস করে দিচ্ছেন ড. ইউনুস
সেন্টমার্টিনের ভাগ্যে কী ঘটেছে? ওটা কি এখনো বাংলাদেশে আছে, না হারিয়ে গেছে? আমি এর জবাব চাই ড. ইউনুসের কাছে। আমাকে সরে যেতে বলা হয়—বলা হয় আমি গণহত্যা করেছি, আমি নাকি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছি। কিন্তু সত্যিকার অপরাধী কে? কী ঘটেছে ধানমন্ডিতে? ডাকাতি করতে গিয়ে যাদের ধরা হয়েছে, তাদেরকে কেন ‘নাগরিক’ এনসিপি-র নেতা হান্নান মাসুদের নেতৃত্বে জোর করে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হলো? কিসের ভিত্তিতে?
১৫ জুলাই থেকে বাংলাদেশে গণহারে পুলিশ হত্যা হয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেই খুনের বিচার কোথায়? ইউটিউব-ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে—ইউনুসের বাহিনী খুন, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—নিঃস্ব করে দেওয়া, অস্ত্রের মুখে ক্ষমতা দখল।
এই ড. ইউনুস এই দেশকে কী দিয়েছেন? জনগণকে কী উপহার দিয়েছেন? মানুষ মরছে, ভাতা বন্ধ, ১১৬টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ঋণ পরিশোধ করেছে। জিটিভির তথ্য অনুযায়ী, আমাদের মোট ঋণের মাত্র ৩৭%। তাহলে এত গল্প কেন?
গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের এক পয়সাও নেই, অথচ বিশ্বের সামনে মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন। টেলিটকের অ্যাপ ব্যবসা আমি চালু করেছিলাম—এখন সেটাকে হাইজ্যাক করেছেন। মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে নিজের নতুন কোম্পানি খুলেছেন। একটি কোম্পানিও লাভজনকভাবে চালাতে পারেননি—কারণ লাভ দেখালে ট্যাক্স দিতে হয়, শ্রমিকদের ফান্ডে টাকা দিতে হয়। তাই তিনি চুপচাপ সেই দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন।
গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য টাকা চাইলে, তাদের উপর নিপীড়ন চালানো হয়। আজ তিনি সেই অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। অথচ সেই আসামিই আজ দেশের ‘ক্ষমতাবান’ ব্যক্তি! কি আশ্চর্য!
এই লোক আজ ক্ষমতায় এসে মানবতা, নৈতিকতা, সভ্যতা—সবকিছুকে পদদলিত করছে। চেহারায় ভদ্রতার মুখোশ, আর ভিতরে ভয়ানক স্বার্থপরতা, লোভ, এবং প্রতারণা। ১৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সমস্ত হত্যাকাণ্ড—তার ডিজাইন করা পরিকল্পনারই অংশ।
৫৬০টি থানা আক্রান্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মীদের গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটানো হয়েছে। যারা নির্যাতিত, তাদের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে; আর যারা নির্যাতন করেছে, তাদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে।
এনসিপির মধ্যে ৪৮টি কোম্পানির হিসাব নেই, অথচ নিয়ন্ত্রণ করছে গ্রামীণ ব্যাংক! এক সময় সেখানে চাকরি করতো, আজ নিয়ন্ত্রণ করছে। কেন? ট্যাক্স বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা বকেয়া, অথচ এক পয়সাও আদায় হয়নি। শুধুমাত্র মামলার রায় ঘোষণার আগেই, আগস্ট মাসে শুরু হয় সন্ত্রাস ও হত্যা। দেশজুড়ে চালানো হয় জঙ্গি হামলা।
আজ মিয়ানমার সীমান্ত অরক্ষিত। যিনি এখন ক্ষমতায় আছেন, তার যদি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার শক্তি না থাকে, তাহলে তিনি কিসের শাসক? শুধু অস্ত্রের জোরে আওয়ামী লীগ নিধন করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যায় না।
আওয়ামী লীগ তো এই দেশের মানুষের সংগঠন। আমার সময়ে কখনো দেশ এভাবে নিয়ন্ত্রণহীন ছিল না। আমরা সেনাবাহিনীকে সম্মান দিয়েছি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। আজ সেন্টমার্টিনে কেউ যেতে পারে না! তার ভাগ্যে কী হয়েছে, ড. ইউনুস বলুন—কার কাছে বিক্রি করলেন সেই দ্বীপ?
আজ যারা আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা করেছিল—তাদের হয়রানি করা হচ্ছে, গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের পাসপোর্ট বাতিল, মামলা, এবং অপমানজনক হেনস্তা চলছে। সেনাবাহিনী যদি জনসমর্থন না পায়, তারা কি টিকে থাকতে পারে? আজ তাদের হেয় করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
আজ নির্বাচন হয়, কিন্তু বিচার হয় না। যারা হত্যা করে, তারা ইনডেমনিটি পায়, আর যারা জীবন দেয়, তারা হয় নিপীড়িত। দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছে, অথচ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নিজের টাকা দিয়ে পদ্মা সেতু করেছি—সেটাও অপমান করে উপহাস করা হয়। অথচ ২২টি জেলা আজ পদ্মা সেতুর সুবিধা পাচ্ছে।
আমার স্পষ্ট দাবি:
- সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
- আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী কারাগারে, তাদের মুক্তি দিতে হবে।
- পণ্যের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
- চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের লাভজনক প্রতিষ্ঠান বিক্রির ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।
আজ যারা আমাদের বদনাম করছে, তারা নিজের ঘরে লাখ লাখ টাকা খরচ করছে—কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়নে এক পয়সা বিনিয়োগ করেনি। বিদেশে বিলাসবহুল অফিস, ভিডিও, প্রচারণায় কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। প্রশ্ন আসে—এই টাকা এলো কোথা থেকে? ৬ হাজার টাকা বেতনে এমডি চাকরি করে আজ তিনি হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হলেন কীভাবে?
এই প্রশ্নের জবাব একদিন তাকে বাংলার মাটিতে দিতে হবে। বাংলাদেশ হাওয়ায় ভেসে আসেনি, সংবাদপত্রে ছাপা হয়ে স্বাধীনতা আসেনি। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করে, ছাত্রলীগকে ধ্বংস করে—এই দেশের শিকড় কেটে ফেলা যাবে না।
আওয়ামী লীগ এই দেশের রক্তে লেখা নাম। দেশের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
