রাজধানীর মিরপুরে দিনে-দুপুরে ২২ লাখ টাকা ছিনতাই ও ব্যবসায়ীকে গুলি করার ঘটনা ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। পড়ুন বিশ্লেষণ।

রাজধানী ঢাকায় দিনের আলোতে জনবহুল এলাকায় রক্তাক্ত ছিনতাই—এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, বরং এক নির্মম বাস্তবতা। ২৭ মে ২০২৫, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে ঘটে যাওয়া ২২ লাখ টাকা ছিনতাই ও ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুল ইসলামকে গুলি করার ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
মাহমুদ মানি এক্সচেঞ্জের মালিক মাহমুদুল ইসলাম যখন মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে নিজের অফিসে যাচ্ছিলেন, তখনো হয়তো ভাবেননি তিনি মৃত্যুর খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন। আব্দুল বাতেন সড়কে মোটরসাইকেলে আসা ছয় জন সশস্ত্র ছিনতাইকারী পথরোধ করে তার শরীরে গুলি চালিয়ে সঙ্গে থাকা ২২ লাখ টাকা লুট করে চলে যায়। গুলিবিদ্ধ মাহমুদুল এখন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানা গেছে। মিরপুর মডেল থানার ওসি সাজ্জাদ রুম্মন জানিয়েছেন, তারা অপরাধীদের শনাক্ত করতে সচেষ্ট।
তবে প্রশ্ন হলো, রাজধানীর অভিজাত একটি এলাকায় দিনের আলোতে কীভাবে এমন নির্ভীকভাবে অপরাধ সংঘটিত হলো?
এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে নগরজীবনে নিরাপত্তাহীনতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। নগরবাসীর মনে প্রশ্ন—
এই শহরে কি আর কেউ নিরাপদ? কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থাই কি আর অপরাধীদের ঠেকাতে পারছে না?
বেশ কিছুদিন ধরেই রাজধানীতে ছিনতাই ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বাড়ছে। এতে প্রমাণিত হচ্ছে যে অপরাধীরা এখন আগের চেয়ে আরও সুসংগঠিত, প্রস্তুত এবং বেপরোয়া। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেদের চিহ্ন রেখে যাচ্ছে না—এ যেন এক নতুন প্রজন্মের অপরাধের রূপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীরা নগদ অর্থ নিয়ে চলাফেরা করায় তারা ছিনতাইকারীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। অথচ এই ধরনের ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেই যথেষ্ট পুলিশি সহযোগিতা কিংবা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুরক্ষা ব্যবস্থা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্র কি তার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে?
এমন প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলেও ঘুরপাক খাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশংসা করা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন। সুশাসনের অভাব, তথ্যভিত্তিক গোয়েন্দা কার্যক্রমের দুর্বলতা এবং অপরাধ দমন কাঠামোর দুর্বলতা—সব মিলিয়ে জনগণ আজ শঙ্কিত।
মিরপুরে ঘটে যাওয়া এই ছিনতাই ও গুলির ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এটি একটি গভীরতর সামাজিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।
রাষ্ট্র, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নাগরিক সমাজ—সবারই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের দায়িত্ব নিতে হবে। নয়তো আজকের মাহমুদুল ইসলামের স্থান কালকেই হতে পারে আরেকজনের।
