সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১২টি কোরবানির গরু লুটের ঘটনা শুধু ডাকাতির নজির নয়, বরং কোরবানির মৌসুমে দেশের মহাসড়কে নিরাপত্তা সংকটের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। বিস্তারিত বিশ্লেষণ পড়ুন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঘটে গেছে এক চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের পশুর হাটগুলোতে যখন গরু বেচাকেনা পুরোদমে চলছে, তখনই সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বগুলা বাজার এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ১২টি কোরবানির গরু লুট করে নেয় একদল ডাকাত। রোববার (২৫ মে) রাতে সংঘটিত এই ঘটনাটি এখনো স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্ক ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায়ী মাহফুজ আলমের দায়েরকৃত অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিক্রির জন্য চট্টগ্রাম নগরীর একটি হাটে গরুগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মাঝপথে ছিনতাইয়ের শিকার হন। গাড়িটি পরবর্তীতে উদ্ধার হলেও গরুগুলোর এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে—এত গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় মহাসড়কে কীভাবে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল এমন একটি সাহসী অভিযান পরিচালনা করলো?
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক শুধু কোরবানির গরু পরিবহনের রুট নয়, বরং এটি দেশের বাণিজ্যিক লাইফলাইন। অথচ এই রুটেই গরু লুটের মতো ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ।
ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, গরুগুলো উদ্ধারে একাধিক পুলিশ টিম কাজ করছে। তবে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনো গরুগুলোর কোনো হদিস মেলেনি। গরু ব্যবসায়ীদের দাবি, যদি এই ধরনের ডাকাতির সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অনেকেই এই ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।
এই ঘটনাটি এককভাবে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি বৃহৎ চিত্রের ইঙ্গিত। কোরবানির ঈদের সময় গরু পাচার, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ঘটনা বাড়ে। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখা দেয়, দাম বাড়ে, আর শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ ক্রেতা।
একইসঙ্গে এই ঘটনাটি আবারো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—পশু পরিবহনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের কোরবানির বাজারে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এটি শুধু ধর্মীয় উৎসবকে নয়, দেশের অর্থনীতিকেও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
মহাসড়কে এ ধরনের ডাকাতি রোধে শুধু পুলিশের টহল নয়, বরং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো জরুরি। পশুবাহী যানবাহনের জন্য আলাদা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করার দাবি জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে সাধারণ জনগণের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষত যারা রাতের বেলায় পণ্য বা পশু পরিবহন করেন, তারা এখন আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
সীতাকুণ্ডে কোরবানির গরু লুটের এই ঘটনা আমাদের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। পুলিশের কাছে প্রশ্ন একটাই—এতবড় ঘটনায় এখনো কেন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই? ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে কোরবানির মৌসুমে গরু সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে, যা ঈদের বাজারকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।
এই ঘটনায় কেবল গরুই হারায়নি একজন ব্যবসায়ী, হারিয়েছে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত—পশু পরিবহনে মানুষের আস্থা।
