বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সংস্কারের নামে দেশের শিল্প ধ্বংস করছেন ইউনূস— এমন অভিযোগ তুলেছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ সুদ এবং আমদানিনির্ভর নীতিতে বিনিয়োগ স্থবির।
অর্থনৈতিক সংস্কার ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার আশ্বাস দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার এসব আশ্বাস যে বাস্তবতা থেকে কতটা বিচ্ছিন্ন, তা এবার প্রকাশ্যে বলছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ইউনূস সরকারের প্রচারনির্ভর কৌশল দেশীয় শিল্প ও উদ্যোক্তাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা ইউনূস সরকারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতা এবং শিল্পবিরোধী অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের মতে, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক ভয়াবহ স্থবিরতার দিকে এগোচ্ছে।
🚨 বিনিয়োগে স্থবিরতা ও কারখানা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “১৯৭১ সালে যেমন বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে, এখন তেমনি পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে দেশীয় শিল্প ও উদ্যোক্তাদের।”
তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ সুদের হার, এবং আমদানিনির্ভর নীতির কারণে দেশি শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। “আমরা গ্যাস বিল পরিশোধ করছি, অথচ গ্যাস পাচ্ছি না। কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অথচ ব্যাংক টাকা ফেরত চাইছে।”
📉 বিনিয়োগ শূন্য, ঋণখেলাপির হুমকি
বিনিয়োগকারীরা জানান, গত আট মাসে দেশে এক টাকারও সরাসরি বিনিয়োগ আসেনি। ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১৩–১৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যখন উৎপাদন নেমেছে ৬০ শতাংশের নিচে। কারখানা বন্ধ থাকলেও সরকার সময় বেঁধে দিয়ে বেতন দেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছে, কিন্তু বাস্তব সহায়তা নেই।
বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, “তিন মাস সুদ না দিতে পারলেই ব্যাংক ঋণখেলাপি করে দিচ্ছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো শিল্পবান্ধব ব্যবস্থা নেই।”
📦 নীতি নয়, চলছে লুটপাট?
শওকত আজিজ রাসেল আরও বলেন, “বই ছাপার অজুহাতে ১০ হাজার টন কাগজ আমদানি করে বাজারে খোলা দামে বিক্রি করা হয়েছে। এখন আবার ৩০ হাজার টন কাগজ ডিউটি ও ডেমারেজ ফ্রি আমদানি হচ্ছে।” একইসঙ্গে চিনি আমদানির বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশে চিনিকল থাকা সত্ত্বেও চিনি আমদানি করার এই উদ্যোগ গভীর শিল্পবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ।”
📊 বিডার লোক দেখানো সম্মেলন, কোনো বাস্তব অগ্রগতি নেই
এপ্রিল ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫’-এ বিডার নতুন চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে ‘বিনিয়োগ হিরো’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে বিনিয়োগের কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যায়নি।
⚠️ ভবিষ্যতের শঙ্কা: ভয়াবহ বিপর্যয় আসন্ন?
ব্যবসায়ীদের মতে, ইউনূস সরকারের নেতৃত্বে বাস্তবতাবিবর্জিত, মিডিয়া-কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কৌশল দেশকে ভয়াবহ বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদি দ্রুত সময়ে বাস্তবভিত্তিক, শিল্পবান্ধব ও উদ্যোক্তাবান্ধব নীতি গ্রহণ না করা হয়, তবে সামনে বড় ধরণের অর্থনৈতিক বিপর্যয় অনিবার্য।
