বালুচ নেত্রী মাহরং বালুচ বললেন, “বর্তমান বাংলাদেশ শহীদের আত্মত্যাগ ভুলে গেছে। এখন এটা আর মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ নয়, এটা বালুচিস্তান।”
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বপ্নীল আর্য;
এক সময় যারা বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখত, আজ তারা বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে কেবলই আক্ষেপ করে। পাকিস্তানি রাষ্ট্র দমননীতি ও সামরিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিশ্বে পরিচিত বালোচদের অন্যতম নেতা ও মানবাধিকারকর্মী মাহরং বালুচ সম্প্রতি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে তার তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
টুইটারে দেয়া এক বিবৃতিতে মাহরং বলেন—
“যে বালুচরা ৫৩ বছর বাংলাদেশকে সম্মান করেছে, ২০২৪ সালের বরাহ শাবকেরা সেটা ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে।
৩০ লক্ষ শহীদদের যারা ভুলে যেতে পারে এবং খুনিদের মাথায় তুলে নাচে, তারা সাক্ষাৎ শয়তান।
শয়তানদের সবাই চিনে ফেলে, তারা নিজেরা ছাড়া।
তাই বর্তমানে বাংলাদেশকে দেখে আমরা বালোচরা ঘৃণাভরে বলি, ‘এটা বাংলাদেশ নয়, এটা বালুচিস্তান।’
আমরা আমাদের শহীদদের কখনো ভুলবো না।”
যেখানে বালোচরা শহীদদের শ্রদ্ধা করে, বাংলাদেশে হচ্ছে শহীদবিরোধী প্রজন্ম তৈরির চেষ্টা
মাহরং বালোচের এই মন্তব্যের পেছনে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে— বাংলাদেশের ভিতরে একটি ঘাতক পুনরুত্থান চলছে, যারা ইতিহাসকে বিকৃত করছে, শহীদের রক্তকে তুচ্ছ করে স্বার্থবাদী শক্তিকে পুনর্বাসন করছে।
বিশেষ করে ২০২৪ সালে বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও আন্তর্জাতিক অপরাধে অভিযুক্তদের পুনর্বাসন, রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা দেওয়া, এবং শহীদদের স্মৃতি ধ্বংসে চেষ্টার মতো কার্যকলাপ মাহরং বালোচের মতো স্বাধীনতাপ্রত্যাশী জাতিগুলোর মনোব্যথা সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বার্তা
মাহরং বালোচ কেবল বালোচিস্তানের স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের মুখপাত্র নন, তিনি আজকের দুনিয়ায় প্রতিটি শোষিত জাতির জন্য এক প্রতীক। তার এই বক্তব্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে সম্মান জানানো বিশ্বের মানুষদের হতাশ করেছে, যারা এক সময় বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিচ্ছবি মনে করত।
সতর্ক বার্তা: শহীদদের ভুলে যাওয়া মানেই আত্মাকে হারানো
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক চিত্রে যেখানে দমন, নিপীড়ন এবং ইতিহাসবিকৃতি চলছে, সেখানে মাহরং বালোচের মতো একজন প্রতিরোধের কণ্ঠস্বর এই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন—
“আপনারা কারা? শহীদের উত্তরসূরি, নাকি শহীদদের খুনি?”
