ড. ইউনূসের মন্তব্যকে মিথ্যাচার আখ্যা দিয়ে ১২ দলীয় জোট বলেছে, ডিসেম্বরেই নির্বাচন চায় দেশের সব গণতন্ত্রপন্থী দল। দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ১২ দলীয় জোট। ইউনূস জাপানে নিক্কেই ফোরামে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ডিসেম্বরের সম্ভাব্য নির্বাচনে ‘মাত্র একটি দল’ অংশগ্রহণ করতে চায়। এই বক্তব্যকে “নিরেট মিথ্যাচার” আখ্যা দিয়ে ১২ দলীয় জোট বলেছে, দেশের সকল গণতন্ত্রপন্থী ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরেই অবাধ, নিরপেক্ষ এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চেয়ে আসছে।
১২ দলীয় জোট শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানায়, অধ্যাপক ইউনূস কিছু মৌলবাদী, জনবিচ্ছিন্ন ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার অপচেষ্টা করছেন। তারা বলেন, ইউনূস রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট এবং স্বেচ্ছাচারী দলের ক্ষমতা রক্ষায় পেছন থেকে ভূমিকা রাখছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনের দাবিতে ১২ দলীয় জোট একাধিকবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসেছে, সভা-সমাবেশ করেছে এবং সুস্পষ্টভাবে বলেছে, জুনের মধ্যেই নির্বাচন ঘোষণা ও ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটগ্রহণ করতে হবে। তাদের মতে, ইউনূস শুধু পদত্যাগের নাটক করেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না, বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে নিজে ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম করতে চাইছেন।
তারা অভিযোগ করেন, ইউনূস গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সক্রিয় দলগুলোকে উপেক্ষা করে এমন সব নেতাকে পাশে নিয়েছেন যারা অতীতে কখনোই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বা নির্বাচন বর্জনের পক্ষে সক্রিয় ছিল না। এর ফলে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক দলগুলো অপমানিত ও অবহেলিত বোধ করছে।
১২ দলীয় জোটের নেতারা দাবি করেন, দেশের সেনাবাহিনীও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাদের মতে, এখন আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। অনতিবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা নির্ধারণ করতে হবে।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত নির্বাচনের ঘোষণা না আসে, তাহলে জনগণ নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সেক্ষেত্রে ইউনূস মৌলবাদী ও জনবিচ্ছিন্ন দলগুলোর সমর্থনও হারাবেন। তার পরিণতি আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির মতো হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন জোট প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার, মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম, সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা, ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, রাশেদ প্রধান, লায়ন ফারুক রহমান, শামসুদ্দীন পারভেজ, মাওলানা আব্দুর রকিব, আবুল কাশেম, এম এ মান্নান ও ফিরোজ মো. লিটন।
