সরকার নির্ধারিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফি দ্বিগুণ করে শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে ইউনুস গং। প্রশ্ন উঠেছে—এই শিক্ষা শোষণের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি কোথায়?
বর্তমান “অন্তর্বর্তী সরকার”-এর নামে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী ড. ইউনুস গং এবার হাত দিয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষার ওপর। সম্প্রতি দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরকার নির্ধারিত ফি প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে হতবাক হয়ে পড়েছে দেশের কোটি সাধারণ মানুষ, যাদের জন্য শিক্ষা ছিল একমাত্র সামাজিক উত্তরণের সিঁড়ি।
🎓 কী ধরনের ফি বাড়ানো হয়েছে?
- ভর্তি ফি, টিউশন ফি, ফরম পূরণ ফি—সবই দ্বিগুণ বা তারও বেশি
- একই সঙ্গে অভিভাবকদের উপর চাপানো হয়েছে নানা অজুহাতে বাধ্যতামূলক “অন্যান্য ফি”
- বেশ কিছু জেলায়, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, সরকারি বিদ্যালয়ের ফি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী হয়ে গেছে
প্রশ্ন উঠছে: শিক্ষার নামে চলছে শোষণ?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা শুধু অর্থনৈতিক বোঝা নয়, এটা একটি নীতিগত আক্রমণ। যার উদ্দেশ্য—
- গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে শিক্ষা থেকে ছিটকে দেওয়া
- শিক্ষাকে ধনীদের একচেটিয়া সুবিধা বানানো
- একটি অশিক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত প্রজন্ম তৈরি করে সহজে শাসনযোগ্য নাগরিক গোষ্ঠী সৃষ্টি করা
“কি লাল স্বাধীনতা এবার রাস্তায় নামবেন না?”
যারা এক সময় লাল পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে শিক্ষা, চিকিৎসা, বেতন ও গণতন্ত্রের দাবিতে রাজপথ দাপিয়ে বেড়াতেন, সেই বাম রাজনীতি ও সুশীল সমাজ আজ কেন চুপ?
শিক্ষা যখন বাণিজ্যে পরিণত হয়, তখন তা হয় রাষ্ট্র ধ্বংসের সূচনা।
এই ফি বৃদ্ধি কোনো স্বাভাবিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি একটি সাংগঠনিক নীতিগত ষড়যন্ত্র, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সেই পুরনো পরিচিত মুখ ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও তাঁর গোষ্ঠী। এর পেছনে রয়েছে বিদেশি সংস্থার চাপ, করপোরেট মুনাফা ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের নীলনকশা।
🎯 ইউনুস গংয়ের মূল লক্ষ্য কী?
- শিক্ষা ব্যবস্থার বেসরকারিকরণ
- সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে এনজিও ও করপোরেট মডেল চাপিয়ে দেওয়া
- একটি বিভক্ত সমাজ তৈরি করা—যেখানে ধনীরা শিক্ষিত, গরিবরা অশিক্ষিত
এখন যে ফি গরিব মানুষ দিতে পারছে না, ভবিষ্যতে সেই শিশুরা কারখানার শ্রমিক বা ডিজিটাল দাসত্বের শিকার হবে। এটিই তাদের পরিকল্পনা।
✊ প্রতিবাদ জরুরি, এখনই
“আপনার আমার সন্তানকে ও আমাদের পরিবারকে শেষ করেই ছাড়বে এই মৌলবাদী ইউনুস গংয়েরা।”
এই বাক্য শুধু আবেগ নয়, বাস্তবতা।
এমন একটা দেশে, যেখানে অভিভাবকদের বেশিরভাগই নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ফি দ্বিগুণ করা মানে—জাতির ভবিষ্যতের দরজা বন্ধ করে দেওয়া।
করণীয় কী?
- শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সংগঠিত করা
- রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা
- শিক্ষানীতির নামে এই দানবীয় সিদ্ধান্তগুলোকে প্রতিরোধ করা
- বাম, প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তোলা
