ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে নিজেই শপথ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। এতে কি তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নাকি এটি একটি জনভিত্তিক প্রতিরোধ? বিশ্লেষণ পড়ুন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়া নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক অভিনব রাজনৈতিক বিতর্ক। বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন ঘোষণা দিয়েছেন—সরকার যদি অবিলম্বে তাকে মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের সুযোগ না দেয়, তবে তিনি নিজেই ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে ‘স্বশপথ’ পাঠ করবেন এবং নগর ভবনে চেয়ারে বসবেন। এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের শহররাজনীতিতে এক নতুন ধরনের প্রতিরোধমূলক কৌশলের প্রতিচ্ছবি।
ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, তার দল নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু ‘নিয়মতান্ত্রিক’ কাঠামোর মধ্যে থেকেও তিনি শপথ গ্রহণ করতে পারছেন না—এটাই তার আক্ষেপ। তাই ‘ভোটারদের আহ্বানে’ সাড়া দিয়ে তিনি নিজেই শপথ নেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন।
তবে প্রশ্ন হলো, এটি কি কেবল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ, নাকি একটি বিদ্রোহী রাজনৈতিক বার্তা?
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র ক্রমশ সীমিত হচ্ছে বলে বিরোধী মহলের অভিযোগ রয়েছে।
ইশরাকের ঘোষণায় ‘চেয়ার দখল’, ‘নগর ভবন নিয়ন্ত্রণ’, ‘উত্তরের মতো প্রশাসক নয়’—এই শব্দগুচ্ছগুলো স্পষ্টতই একটি প্রতিরোধ ও শক্তির প্রকাশ। এটি এক ধরনের পপুলিস্ট ভাষ্য, যেখানে সরাসরি জনগণের পক্ষ থেকে ক্ষমতা গ্রহণের দাবি করা হয়। তার ভাষায়, “ঢাকাবাসীই নগর ভবন কীভাবে চলবে তা ঠিক করবে।”
তবে এও সত্য, এই ঘোষণার মাধ্যমে এক ধরনের আইন-শৃঙ্খলাজনিত উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। যদি একজন রাজনৈতিক নেতা নিয়মতান্ত্রিক পন্থা ব্যর্থ হলে ‘নিজেই শপথ’ নেওয়ার কথা বলেন, সেটি কি ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত নয়?
ইশরাক হোসেন তার ঘোষণায় ঈদ ও জনগণের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে বর্তমান অবস্থান কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একদিকে তার রাজনৈতিক কৌশলের নমনীয়তা প্রকাশ করে, অন্যদিকে ঈদের আগে কোনও সংঘাত এড়ানোর কূটনৈতিক বোধেরও ইঙ্গিত দেয়।
তবে বিরোধী দলের একজন নেতা নগর ভবনের নিয়ন্ত্রণ দাবি করছেন এবং “আমিই নিয়ন্ত্রণে রেখেছি” বলছেন—এটি প্রশাসনের জন্য এক বড় ধরনের বার্তা। এটা কি ভবিষ্যতের নতুন রাজনৈতিক কৌশলের বার্তা দিচ্ছে?
ইশরাক হোসেনের এই বক্তব্য ও অবস্থান বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। এটি কেবল একটি মেয়র শপথের ঘটনা নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষ্য, যেখানে নির্বাচনের পর ক্ষমতা গ্রহণের অধিকারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। এটি একটি গভীর রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়—যেখানে নিয়ম, নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের প্রতিনিধি হওয়ার লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
