করোনার নতুন ঢেউ ফিরে আসছে, অথচ সরকার ব্যস্ত বাস্তবতা আড়াল করতে ‘নাটক’ মঞ্চস্থ করতে। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দুর্বলতা দেশের ভবিষ্যতের জন্য কী সংকেত দিচ্ছে?
বাংলাদেশ এখন এক গভীর রাষ্ট্রীয় সংকটে। জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড়সড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার বদলে সরকার ‘নাটক’ মঞ্চস্থ করায় ব্যস্ত, যার ফলে জনজীবনের দুর্দশা পরিণত হয়েছে পুঁজি করা উপাদানে।
করোনাভাইরাস আবার ফিরে আসছে। বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ বাড়ছে, বাংলাদেশেও নতুন ভ্যারিয়েন্টের ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অথচ, জনগণের কর আর আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্থ খরচ করে গড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি প্রায় নেই বললেই চলে।
🧩 করোনার প্রথম ধাক্কা: শিক্ষা না অভিনয়?
প্রথম ঢেউয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কিছুটা সুচারু ব্যবস্থাপনা হয়েছিল, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই সফলতাকে ক্যাম্পেইনমুখী ব্যানার বানিয়ে থেমে গেছেন সরকার। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রস্তুতি বা গবেষণা—কোনো কিছুতেই সরকার বিনিয়োগ করেনি।
সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, চিকিৎসকদের অনিশ্চয়তা, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্য চলমান—সবমিলিয়ে এক অযোগ্যতার প্রদর্শনী চলছে।
🌐 আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি: একঘরে হয়ে পড়া বাংলাদেশ
বর্তমান সরকারের সবচেয়ে উদ্বেগজনক ব্যর্থতা পররাষ্ট্রনীতি।
- যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল।
- বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশের অর্থনীতিকে চেপে ধরছে।
- ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায়, প্রশাসনিক হয়রানির শিকার।
- কৃষি, শিল্প, রপ্তানি, সবখানেই চরম অচলাবস্থা।
🧠 অদক্ষ লোকের হাতে রাষ্ট্র: করোনার কাছে আত্মসমর্পণ
নির্বাচিত নয়, মনোনীত নয়—বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনের বেঞ্চ থেকে তুলে আনা উপদেষ্টা, কিংবা প্রবাসী পরিচিতদের দিয়ে রাষ্ট্র চালানোর চেষ্টা এখন চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত।
এমনকি, করোনা মোকাবেলার মতো জটিল ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দলীয় মিছিল, মঞ্চ ও মব ভরসার জায়গায় পরিণত হয়েছে।
এই অবস্থায় বলা যায়, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সংকটবোধহীন হয়ে উঠেছে। সংকট এলে ‘নাটক’ তৈরি করে, আর সমাধানের বদলে জনগণকেই দায়ী করে।
সামনে আরও গভীর সংকট
বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি—
- একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন
- দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্ব
- সুবিন্যস্ত মহামারি প্রস্তুতি পরিকল্পনা
- এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জাতীয় ঐক্য ও অভিজ্ঞ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
নইলে শুধু করোনা নয়, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ একাধিক মহাসংকট গোটা জাতিকে গিলে ফেলবে।
