
ড. ইউনুসের তথাকথিত ‘জুলাই ঘোষণা’ একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থানের পূর্বাভাস। সংবিধান ভেঙে অবৈধ সরকারের বৈধতা দিতে মরিয়া এই পরিকল্পনা দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।
কলাম লিখায়ঃ জী ইসলাম
বাংলাদেশ আজ এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি।
ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার “জুলাই ঘোষণা” নামক এক ভয়ংকর চক্রান্ত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে।
এই ঘোষণার লক্ষ্য শুধু একটি ‘অবৈধ সরকারকে বৈধতা দেওয়া’ নয়, বরং দেশের মৌলিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো, সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করে একটি বিকৃত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
⚖️ সংবিধানবিরোধী ষড়যন্ত্র: সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতা
বর্তমান সংবিধানের ৭(ক) অনুযায়ী, কোনো অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা রাষ্ট্রদ্রোহিতা।
কিন্তু “জুলাই ঘোষণা”র মাধ্যমে:
- বর্তমান সংবিধান বাতিলের ঘোষণা আসতে পারে
- রাজাকারদের ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ বলাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে
- রাষ্ট্রের তিনটি বাহিনীতে বিদ্যমান চেইন অব কমান্ড বাতিল করে অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের বসানো হবে
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাতিল করে এই ঘোষণার বিরোধিতাকারীদের মৃত্যুদণ্ডের আইন তৈরি করা হচ্ছে বলে গোপন সূত্র জানিয়েছে
এগুলো কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি পদ্ধতিগত অভ্যুত্থান।
🧠 জনগণের নয়, জামায়াত-এনসিপি’র পুঁজি
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পুরো প্রকল্পে জনগণের সমর্থন নেই।
ড. ইউনুস ও তাঁর সহযোগী গোষ্ঠী মূলত ভরসা করছেন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াত ও এনসিপি-এর ওপর।
যাদের সম্মিলিত জনভিত্তি ৫ শতাংশেরও কম, তারা আজ রাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রে প্রবেশের চক্রান্ত করছে।
🚨 রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন: একটি সুশৃঙ্খল coup d’état?
সূত্র অনুযায়ী, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর শীর্ষ পদে নতুনভাবে ‘অনুগত’ অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের পুনঃনিয়োগ দেওয়ার আইনি পথ তৈরি করা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে:
- বর্তমান বাহিনীর পেশাদার কাঠামো ধ্বংস হবে
- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে
- গণতন্ত্রের পরিবর্তে একটি শাসককেন্দ্রিক, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাবে
📢 মতপ্রকাশ মানেই মৃত্যুদণ্ড?
যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার।
কিন্তু “জুলাই ঘোষণা” বিরোধিতাকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহের নামে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান প্রণয়ন চূড়ান্ত হচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।
এটি নিছক ভয়ংকর নয়—এটি ১৯৭১ সালের চেতনার সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।
🛑 জাতির অস্তিত্বের হুমকি: এখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে
“জুলাই ঘোষণা” একটি ঐতিহাসিক বিভ্রান্তির নাম হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
এটি কেবল একটি ‘নতুন পথ’ নয়, এটি বাংলাদেশের আত্মা হত্যার ষড়যন্ত্র।
👉 এখন সময় এসেছে—
- রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য
- সুশীল সমাজের সোচ্চার ভূমিকা
- সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিরোধ
- এবং সর্বোপরি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ
কারণ এখন যদি জাতি জাগে না, তাহলে কাল আমরা আর এই বাংলাদেশকে চিনতে পারব না।
