
ইউরোপীয় সংগঠনগুলো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ড. ইউনূস সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখার আহ্বান জানিয়েছে। চিঠিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন মানবাধিকার ও গবেষণা সংগঠন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখার আহ্বান জানিয়েছে। চিঠিতে সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং চরমপন্থীদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
চিঠিটি পাঠিয়েছে:
- ইউরোপীয় বাংলাদেশ ফোরাম (ইবিএফ)
- সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম (বেলজিয়াম)
- ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (জার্মানি)
- আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক (তুরস্ক)
⚠️ চিঠির মূল অভিযোগসমূহ:
- ২০২৪ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথ বেছে নেয়।
- সরকারে চরমপন্থী দল ও বিএনপি-জামায়াতপন্থী নেতাদের প্রাধান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP) কর্তৃত্ববাদী কৌশলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
📊 পরিসংখ্যান ও সহিংসতার নথিভুক্ত উদাহরণ (গত ১০ মাসে):
- ৩,৫৯,৭৯৮ জন গ্রেপ্তার
- সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৩৫৬টি হয়রানি মামলা
- ১৪০টি মিথ্যা হত্যা মামলা
- ১৬৭টি প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল
- ১,৫০০টিরও বেশি ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ধ্বংস
🇧🇩 মুক্তিযুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক ধ্বংসচেষ্টা:
- বঙ্গবন্ধুর “জাতির পিতা” উপাধি বাতিল
- ধানমন্ডি ৩২-এর ঐতিহাসিক ভবন ও স্মৃতিসৌধ ধ্বংস
- আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ (১২ মে ২০২৫)
- মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম মুক্ত
🔒 বিচারবহির্ভূত গ্রেফতার ও ধর্মীয় নিপীড়ন:
- শাহরিয়ার কবির ও তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা
- হিন্দু, খ্রিস্টান, আহমদিয়া ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর হামলা বৃদ্ধি
- চরমপন্থী ইসলামবাদীদের উত্থানে উদ্বেগ
🕊️ আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
- ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউনূস সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করেছেন
- যুক্তরাজ্যের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স ইউনূসের বিরুদ্ধে আইসিসি-তে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনা করছে
📢 ঘোষিত কর্মসূচি:
ড. ইউনূসের ১০–১৩ জুন লন্ডন সফরকালে চ্যাথাম হাউস ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় সংগঠনগুলো।
✍️ চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ব্যক্তিবর্গ:
- ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, ইবিএফ, যুক্তরাজ্য
- পাওলো কাসাকা, সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, বেলজিয়াম
- ক্লাউস স্ট্রেম্পেল, ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ, জার্মানি
- তারিক গুনারসেল, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক, তুরস্ক
