
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইউরোপীয় সংগঠনগুলো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে। ড. ইউনূসের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন।
এই সংগঠনগুলো হল—ইউরোপীয় বাংলাদেশ ফোরাম (ইবিএফ), সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম (বেলজিয়াম), ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (জার্মানি) এবং আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক (তুরস্ক)।
চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পরিত্যাগ করে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিলে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাচ্ছে, এবং এই সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পৃষ্ঠপোষকতায় সহায়তা করার শামিল।
📉 চিঠির মূল অভিযোগ ও তথ্যউপাত্ত
- ১০ মাসে গ্রেপ্তার: ৩,৫৯,৭৯৮ জন, যাদের মধ্যে বহু শান্তিপূর্ণ কর্মী রয়েছেন
- সাংবাদিক নিপীড়ন: ৩৫৬টি হয়রানি, ১৬৭টি প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল
- হত্যা মামলা: ১৪০টি ভুয়া হত্যা মামলা দায়ের
- ভাস্কর্য ধ্বংস: ১,৫০০টিরও বেশি ম্যুরাল ও স্মৃতিসৌধ ভাঙচুর, যা তালেবান-আইএসআইএল-এর ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে তুলনীয়
- বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা: “জাতির পিতা” উপাধি বাতিল, ধানমন্ডি ৩২ ধ্বংস এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি
- আ.লীগ নিষিদ্ধ: ১২ মে ২০২৫, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা
- জামায়াত নেতাদের মুক্তি: এটিএম আজহারুল ইসলামের মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজা বাতিল
- ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন: হিন্দু, খ্রিস্টান, আহমদিয়া ও আদিবাসীদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা
🔍 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধ কর্মসূচি
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ড. ইউনূস সরকারের সঙ্গে বৈঠক প্রত্যাখ্যান করেছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারস আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করছে।
ড. ইউনূসের লন্ডন সফর (১০-১৩ জুন) চলাকালে চ্যাথাম হাউস ও পার্লামেন্ট ভবনের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
✉️ চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ব্যক্তিত্ব:
- ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর, ইবিএফ, যুক্তরাজ্য
- পাওলো কাসাকা, নির্বাহী পরিচালক, SADF, বেলজিয়াম
- ক্লাউস স্ট্রেম্পেল, ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ, জার্মানি
- তারিক গুনারসেল, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক, তুরস্ক
🛡️ বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট
এই চিঠি শুধু কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক নৈতিক অবস্থান। এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইনসঙ্গতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
🔔 সম্পাদকীয় মন্তব্য:
এই চিঠি বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক আদালতের মামলা, কূটনৈতিক অস্বীকৃতি এবং বিক্ষোভের সম্মিলিত ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে।
