
ইসরায়েলের ওপর পাল্টা হামলায় ইরান ১৩ দফা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলেও ‘হজ কাসিম’ ও ‘খোররমশাহর’ ক্ষেপণাস্ত্র মাঠে নামায়নি। তাসনিম নিউজ বলছে, যুদ্ধ কৌশল এখনো পরিপূর্ণভাবে প্রয়োগ হয়নি।
✍️ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও ইরান এখনো তার সর্বাধুনিক এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রভাণ্ডার পুরোপুরি ব্যবহার করেনি—এমনটাই জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ। বিশেষ করে ‘হজ কাসিম’ ও ‘খোররমশাহর’ নামের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে সক্রিয় করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
🔥 পটভূমি: ইসরায়েলের ‘বিনা উসকানি হামলা’
গত ১৩ জুন ২০২৫, ইসরায়েল ইরানের সামরিক ঘাঁটি, পারমাণবিক স্থাপনা এবং বেসামরিক আবাসিক এলাকায় একাধিক বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে নিহত হন ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ সাধারণ জনগণ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ছিল একটি পূর্ব পরিকল্পিত আগ্রাসী হামলা।
🛡️ পাল্টা প্রতিক্রিয়া: ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস থ্রি’
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) অ্যারোস্পেস ইউনিট পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে শুরু করে “অপারেশন ট্রু প্রমিস থ্রি” নামের ধারাবাহিক প্রতিশোধমূলক আঘাত। ১৩ দফায় পরিচালিত এ হামলায় ব্যবহৃত হয়:
- মিড-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল
- ক্রুজ মিসাইল
- কামিকাজে ড্রোন
📉 তবু ‘হজ কাসিম’ ও ‘খোররমশাহর’ মাঠে নেই
সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবেই তার নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক অস্ত্র সিস্টেম ব্যবহার করেনি।
“হজ কাসিম” (দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র) ও “খোররমশাহর” সিরিজের অস্ত্রগুলো যে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা অস্বীকার করছেন না বিশ্লেষকরা। তবে এই মুহূর্তে সেগুলো দমন-পীড়নের নয়, বরং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের অংশ বলেও মন্তব্য করেন তারা।
🚨 ১০টি কৌশলগত বৈশিষ্ট্য: ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যর্থ
তাসনিম নিউজ উল্লেখ করেছে, ইরানের পাল্টা হামলাগুলোতে অন্তত ১০টি বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে:
- একযোগে বহু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত
- আকাশপথে বিভ্রান্তিকর মডিউল ব্যবহার
- সাইবার হস্তক্ষেপ ও GPS জ্যামিং
- অত্যাধুনিক লো-রাডার প্রোফাইলযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র
🌍 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
- রাশিয়া ও চীন ইরানের প্রতিক্রিয়াকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ বললেও, ইসরায়েলের উসকানি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেনি
- মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাষ্ট্রগুলো বেশিরভাগই নিরব থাকলেও, সৌদি আরব পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বলে জানিয়েছে
ইরান এখনো তার চূড়ান্ত আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ব্যবহার করেনি, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ হতে দিচ্ছে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ভবিষ্যতে তা ব্যবহার করা হবে না। ‘হজ কাসিম’ ক্ষেপণাস্ত্র যখন মাঠে নামবে, যুদ্ধের সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে যাবে—এমনটাই মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
