
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ‘অপারেশন নার্নিয়া’ অভিযানে ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যার দাবি করেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি তেহরানের পরমাণু শক্তি দমনের সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে পেছনে ঠেলে দিতে মোসাদের ‘অপারেশন নার্নিয়া’ নামে এক গোপন সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির দৈনিক The Jerusalem Post জানিয়েছে, এই অভিযানে টার্গেট করা হয় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) শীর্ষ নেতৃত্ব এবং পরমাণু গবেষণার মূল বিজ্ঞানীদের।
‘রাইজিং লায়ন’ অভিযানের আওতায় পরিচালিত এই মিশনে যুক্ত ছিল ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর ১২০ জন সদস্য এবং বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ অপারেশন দল। তারা চার স্তরের হিটলিস্ট প্রস্তুত করে। এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন এমন বিজ্ঞানীরা, যাদের প্রতিস্থাপন করা কঠিন এবং যাদের দক্ষতা ছিল সামরিকভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
☢️ নিহত পরমাণু বিজ্ঞানীদের তালিকা:
১. ফেরেইদুন আব্বাসি – পারমাণবিক প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ
২. মোহাম্মদ মাহদি তাহরানচি – পদার্থবিদ
৩. আকবর মাতলালি জাদে – কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার
৪. সাঈদ বেরাজি – উপাদান প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ
৫. আমির হাসান ফাকাহি – পদার্থবিদ
৬. আবদুল হামিদ মিনুশাহর – রিঅ্যাক্টর পদার্থবিদ
৭. মনসুর আসগারি – পদার্থবিদ
৮. আহমদ রেজা দাওলপারকি দরিয়ানি – পারমাণবিক প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ
৯. আলি বাখায়ী কাতেহরেমি – যান্ত্রিক প্রকৌশলী
📊 বিশ্লেষকদের মতামত:
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই গুপ্ত অভিযান কেবল ইরানের পরমাণু সক্ষমতাকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার কৌশল নয়; বরং এটি ছিল এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। ইসরায়েল তেহরানের অভ্যন্তরে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং বিভ্রান্তি তৈরি করতে চেয়েছে। একইসঙ্গে, ইরানের বৈজ্ঞানিক অবকাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে সরাসরি আঘাত হানার মাধ্যমে দেশটির পরমাণু শক্তি অর্জনের গতি ব্যাহত করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
🌍 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
ইরান এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি আগ্রাসন।” তবে ইসরায়েল এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ না খুললেও পশ্চিমা বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে ‘ডিপ স্টেট অপারেশন’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
✅ চূড়ান্ত মন্তব্য:
‘অপারেশন নার্নিয়া’ ইসরায়েল-ইরান বিরোধে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি শুধু দুটি রাষ্ট্রের সংঘর্ষ নয়—এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক, প্রযুক্তিগত ও ভূরাজনৈতিক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে, যার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদে পড়বে।
