প্রকৃত আওয়ামী লীগ বনাম সুবিধাবাদী আওয়ামী লীগ—২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কারা আদর্শবান আর কারা মুখোশধারী, সেটি এখন স্পষ্ট। এই লেখায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে আদর্শ বনাম সুবিধাবাদী প্রবণতার বাস্তব চিত্র।
২০২৫ সালের বাংলাদেশ এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাজপথে লড়ছেন, জেল-গুম-হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে এক শ্রেণির সুবিধাবাদী “আওয়ামী লীগার” সেজে এখনকার অগণতান্ত্রিক ইউনুস-তাবিথ সরকারের ছায়ায় নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন। এই বৈপরীত্য একদিকে যেমন রাজনৈতিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে সত্যিকারের আওয়ামী লীগারদেরকে আলাদা করে চিনে নেয়ার সুযোগও তৈরি করছে।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে যারা রাজনীতি করেন, তারা কখনও ব্যক্তিগত সুবিধা বা পদলোভের মোহে আন্দোলনে নামেন না। তাদের রাজনীতির মূলে আছে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, এবং জাতীয় স্বার্থ। আজ তারা কারাগারে, আদালতের বারান্দায় অথবা আন্দোলনের মাঠে—কারণ তারা আদর্শের জন্য বিনিময়হীন সংগ্রাম করতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, সুবিধাবাদীরা কখনোই রাজপথে থাকে না। তারা থাকে টকশো, ফেসবুক পোস্ট এবং ছদ্ম সমালোচনায়। তারা দলের ভুল ধরিয়ে দেয়ার নামে আসলে দলের মনোবল ভেঙে দেয়। এদের রাজনৈতিক মূলধন হলো—ব্যক্তিগত সম্পর্ক, চাটুকারিতা এবং ষড়যন্ত্রে শরিক হওয়া।
বর্তমান ক্ষমতাসীন অবৈধ ইউনুস সরকার যে বিদেশি প্রভাব এবং অর্থে পরিচালিত হচ্ছে তা আর গোপন নয়। মাহাথির মডেল অনুসরণ করে চালানো এই শাসনযন্ত্রে কিছু সাবেক আওয়ামীপন্থী এখন চেয়ারের আশায় দলীয় পরিচয়কে হাতিয়ার বানিয়ে স্বার্থের জন্য আদর্শ বিসর্জন দিয়েছেন।
এদের কেউ কেউ আবার চেষ্টা করছে প্রকৃত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে বিতর্কিত করার—বিশেষ করে ওবায়দুল কাদেরসহ যেসব নেতা এখনো কোনোরকম আপস না করে প্রতিরোধে অবিচল রয়েছেন। যদি তারা সত্যিই এই সরকারের সাথে থাকতেন, তাহলে তারা আজ কারাগারে নয়, বরং মন্ত্রিসভায় অথবা পরামর্শক হিসেবে বিদেশি লবিস্টদের সাথে দেখা যেত।
যারা দল করেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন, যারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বাস রাখেন, তাদের এখন মিথ্যার মুখোশ খুলে ফেলা প্রয়োজন। কেবল "আওয়ামী লীগ করি" বললেই আওয়ামী লীগার হওয়া যায় না। একজন প্রকৃত আওয়ামী লীগার কখনো মুখ বাঁচিয়ে চলেন না—তিনি মাঠে থাকেন, মানুষকে বোঝান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
এখন সময় এসেছে বিভ্রান্তির রাজনীতি থেকে বের হয়ে, আদর্শিক ভিত্তিতে পরিচয় নির্ধারণ করার। কে আসল, কে নকল—এটা বোঝার এখন আদর্শ সময়।
রাজনীতিতে নাম বিক্রি করে বাঁচা যায় কিছুদিন, কিন্তু ইতিহাসের কড়ায় গন্ডায় মূল্য দিতে হয়। তাই এখন প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর নাম নয়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে দেশের জন্য লড়াই করার। যারা সত্যিকারের আওয়ামী লীগার, তাদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। মুখোশধারীদের চিহ্নিত করতে হবে—না ঘৃণায়, বরং ইতিহাসের জবাবদিহিতায়।
এটাই সময় সত্যকে বেছে নেয়ার, নকলের মুখোশ ছিঁড়ে ফেলার। প্রকৃত আওয়ামী লীগ বনাম সুবিধাবাদী আওয়ামী লীগ—এই দ্বন্দ্বে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। আপনি কাদের পাশে?
