শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষিতে, তাঁর নেতৃত্ব, উত্তরাধিকার ও ইতিহাস রক্ষার শপথ নিয়ে লেখা বিশ্লেষণধর্মী কলাম। মুজিব-হাসিনার চেতনায় অনড় জাতির বিবেকের প্রতিবাদী ভাষ্য।
“শেখ হাসিনা, আমরা তোমায় ভুলি নাই”—এই উচ্চারণ কোনো আবেগতাড়িত স্লোগান নয়, এটি ইতিহাসের প্রতিধ্বনি। এটি এক বিশ্বাস, এক রাজনৈতিক চেতনা, যার শিকড় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর দর্শন, ও শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত।
১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আসা শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ছিল এক ঐতিহাসিক পুনর্জন্ম। তিনি ছিলেন শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নন, ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের প্রতীক। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবার উঠে দাঁড়ায়, রক্তের বদলে উন্নয়নের ঝর্ণাধারায়।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে—বাংলাদেশ আবারও এক অশুভ চক্রের ঘূর্ণিতে পড়েছে। ইতিহাস মুছে ফেলার প্রচেষ্টা, উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা, রাষ্ট্রীয় শান্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা—সবই একই ষড়যন্ত্রের অংশ, যার টার্গেট শেখ হাসিনা। তাঁকে সরিয়ে দিতে পারলেই যেন ৭৫-এর প্রেতাত্মারা আবার মাথাচাড়া দিতে পারবে।
তবে ভোলার নয়, শেখ হাসিনা একক কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন—তিনি বঙ্গবন্ধুর চেতনার ধারক। তাঁর উপর আঘাত মানে আসলে ইতিহাসে আঘাত, আত্মপরিচয়ের উপর চরম আক্রমণ।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যা অর্জন করেছে তা পরিসংখ্যান দিয়ে পরিমাপ সম্ভব, কিন্তু শুধু সংখ্যায় মূল্যায়ন সম্ভব নয়। পদ্মা সেতু থেকে মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ বিপ্লব থেকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর থেকে নারীর ক্ষমতায়ন—এসব অর্জনের পেছনে রয়েছে এক গভীর দর্শন: “জনগণের ক্ষমতায়ন”।
এই দর্শনকে ধ্বংস করতে আজ সক্রিয় এক ভয়াবহ গোষ্ঠী, যারা আবারও ‘ভয়’ ও ‘মিথ্যা’র বুননে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়।
আজ শেখ হাসিনা গৃহবন্দি বা অন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে থাকলেও তাঁর অনুসারীরা হারিয়ে যায়নি। তাঁরা রাজপথে না থেকেও আন্দোলনের প্রতীক হয়ে আছেন।
কারাগারে থেকেও তাঁদের চেতনাগত অস্তিত্ব হিমালয়ের মতো অটল। তাঁদের কণ্ঠে এখনো ‘জয় বাংলা’ উচ্চারিত হয় আগুন হয়ে। তাঁরা জানেন, এটা শুধু একজন নেত্রীর মুক্তির প্রশ্ন নয়—এটা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।
আজকের প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রশ্ন জাগে—আমরা কীভাবে শেখ হাসিনাকে স্মরণ করবো? শুধুই আবেগ দিয়ে নয়। প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায়ে তার আদর্শ, তাঁর অর্জন এবং তাঁর নেতৃত্বের ইতিহাস তুলে ধরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, রাজপথে, শিক্ষাঙ্গনে, রাজনৈতিক আলোচনায় এই সত্য তুলে ধরা জরুরি যে শেখ হাসিনাকে ভুলে যাওয়ার মানে নিজেকে অস্বীকার করা।
আমরা শেখ হাসিনার কর্মী, মুজিবের সৈনিক। আমরা জাতির বিবেক—কারাবন্দি নই। এই আত্মচেতনা যেন অন্ধকারের বিরুদ্ধে আমাদের দীপ্ত মশাল হয়ে দাঁড়ায়।
“শেখ হাসিনা, আমরা তোমায় ভুলি নাই”—এই বার্তা শুধু শেখ হাসিনাকে নয়, গোটা জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় ইতিহাসের দায়। উন্নয়ন, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার জন্য একজন নেতা যেমন দরকার, তেমনি দরকার সেই নেতাকে ঘিরে অসংখ্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মানুষের সমবেত কণ্ঠ। ষড়যন্ত্র যত গভীরই হোক, ইতিহাসের ধারা থেমে থাকে না।
আমরা ছিলাম, আছি, থাকবো—মুজিব আদর্শের দুর্বার যোদ্ধা হয়ে।
