
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আদৌ দেশীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। লন্ডনভিত্তিক ক্রিস ব্ল্যাকবার্নের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো, কানাডিয়ান ফার্ম ‘এলিনিয়া ইন্টারন্যাশনাল’ সরকারের সংস্কার ও মিডিয়া কৌশল পরিচালনা করছে, যা পূর্বে গোপন ছিল।
অনলাইন ডেস্ক | মুক্তিবার্তা৭১
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার কারা চালাচ্ছে—এই প্রশ্ন এখন শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুও বটে। সম্প্রতি লন্ডন-ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন এবং গণমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজ এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছে এক কানাডিয়ান পরামর্শক সংস্থার ছায়ায়, যা পূর্বে গোপন রাখা হয়েছিল।
🎯 বি-ক্যাপ প্রোগ্রাম ও এলিনিয়া ইন্টারন্যাশনাল
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের FCDO (Foreign, Commonwealth and Development Office) বাংলাদেশে “Collaborative, Accountable and Peaceful Politics” বা B-CAPP নামে একটি প্রোগ্রাম চালু করে। এই প্রকল্পে কানাডার ক্যালগারি-ভিত্তিক এলিনিয়া ইন্টারন্যাশনাল নামক সংস্থা নিয়োগ পায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের (OCA) সংস্কার ও কৌশলগত যোগাযোগ পরিচালনার জন্য।
📂 মোট বরাদ্দ: £474,468
💸 পরিশোধিত এখন পর্যন্ত: £177,233
🗓️ সময়কাল: ডিসেম্বর ২০২4 – জানুয়ারি ২০২৮
এফসিডিও’র উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো, মিডিয়ার সঙ্গে সরকারের কৌশলগত যোগাযোগ মজবুত করা এবং ভুল তথ্য মোকাবিলা করা। তবে জমিনের বাস্তবতায় প্রাপ্ত অগ্রগতি প্রায় শূন্য, বলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
🤐 গোপনীয়তা ও জবাবদিহির অভাব
নর্থইস্ট নিউজ জানিয়েছে, তারা বারবার ড. ইউনূসের প্রেস অফিসে ইমেইল করে প্রকল্পের ব্যাপারে জানতে চেয়েছে—কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো উত্তর আসেনি। এমনকি প্রকল্পের অংশ হিসেবে কোন আন্তর্জাতিক দরপত্র হয়েছিল কিনা, সেটিও অজানা।
🧍 উইলিয়াম মরিসন ও বিতর্কিত অতীত
এলিনিয়া ইন্টারন্যাশনালের প্রাক্তন উপদেষ্টা উইলিয়াম মরিসন ছিলেন ২০১৭ সালের ব্রিটিশ বিদেশি সাহায্য কেলেঙ্কারির একজন প্রধান চরিত্র। তিনি আগে Adam Smith International-এ কাজ করতেন এবং গোপন সরকারি নথি ফাঁস করে ব্যক্তিগত লাভের অভিযোগে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি MatrixLede নামক এক সংবেদনশীল সফটওয়্যার কোম্পানির চেয়ারম্যান, যা ন্যাটো, ফাইভ আইজ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করে।
❗স্বাধীনতা নাকি নিয়ন্ত্রণ?
নর্থইস্ট নিউজ বলছে, এই তথ্যগুলো যদি সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কার্যালয়ের নীতিনির্ধারণ বিদেশি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
“এটি শুধু জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন নয়, বরং একটি অন্তঃসারশূন্য সরকারের অস্তিত্বের প্রতিচ্ছবি।”
🧾 অজবাবদিহিতার প্রশ্নপত্র (উত্তরবিহীন):
- কে এলিনিয়াকে নিয়োগ দিল?
- নিয়োগের ধরন কি আন্তর্জাতিক দরপত্র ভিত্তিক?
- কোনো কার্যকর পর্যালোচনা হয়েছে কি?
- এর প্রকৃত উপকারিতা কী?
📣 ব্ল্যাকবার্নের উদ্বেগ:
ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, যিনি ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম (EBF)-এর সাথে যুক্ত, X (সাবেক টুইটার)-এ একাধিক টুইটে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন—
“কেন বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত এখন বিদেশি সংস্থার হাতে? বাংলাদেশের মানুষ কি জানে কারা তাদের হয়ে দেশ চালাচ্ছে?”
📌 সারাংশ:
- বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা ও মিডিয়া কৌশল পরিচালনা করছে এক কানাডিয়ান সংস্থা
- প্রকল্পটি গোপন রাখা হয় এবং কোনো স্বচ্ছতা নেই
- নিয়োগপ্রাপ্ত সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল বিতর্কিত ব্যক্তি উইলিয়াম মরিসন
- বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের পরিপন্থী ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি
