
প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বক্তব্যে উঠে এলো, গণমাধ্যমে হামলাকারী মব ও তৌহিদি জনতাকে প্রেশার গ্রুপ হিসেবে দেখছে ইউনূস সরকার। এই বক্তব্যে সরকারের উগ্রবাদী অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত খুঁজছেন বিশ্লেষকরা।
অনলাইন ডেক্সঃ মুক্তিবার্তা৭১
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ইউনূস-চালিত অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতায় আসার পরপরই বিভিন্ন পত্রিকা কার্যালয়ের সামনে তৌহিদি জনতা নামধারী মব হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনাগুলোকে সরকার ও তার উপদেষ্টারা এতদিন এড়িয়ে গেলেও, অবশেষে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সেমিনারে প্রেশার গ্রুপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এসব গোষ্ঠীকে।
📍সরকারি অবস্থান না মতামত?
২৬ জুন সিরডাপ মিলনায়তনে “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও আইনি কাঠামো” শীর্ষক সেমিনারে শফিকুল আলম বলেন,
“আমি এটাকে মব বলছি না, বলছি প্রেশার গ্রুপ। যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারাই এই গ্রুপ তৈরি করছেন।”
এই বক্তব্যের পরপরই উপস্থিত সাংবাদিক মুক্তাদির রশীদ বারবার জানতে চান, এটা কি সরকারিভাবে স্বীকৃত অবস্থান, নাকি শফিকুলের ব্যক্তিগত মতামত? প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম একাধিকবার পাল্টা প্রশ্ন করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বলেই ফেলেন,
“এটা সরকারের অবস্থান না, আমি আমার কথা বলেছি।”
❗জনগণের প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউনূস সরকার। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—
“মব যারা পত্রিকা অফিসের সামনে গরু কোরবানি দেয়, ভয়ভীতি দেখায়—তাদের যদি সরকার প্রেশার গ্রুপ হিসেবে মানে, তাহলে সরকার কি তাদের পৃষ্ঠপোষক?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে মব-তৌহিদি জনতা মূলত ইউনূস সরকারের অংশীজন হিসেবেই কাজ করছে। প্রেস সচিবের বক্তব্যে উঠে এসেছে যে এরা সেই গোষ্ঠী যারা “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষতিগ্রস্ত” হয়েছিল এবং এখন প্রতিশোধ নিচ্ছে।
🧠বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আশরাফ মাহমুদ বলেন—
“এটা ভয়ংকর বার্তা। মানে দাঁড়াচ্ছে, যারা জঙ্গি-সন্ত্রাসী আচরণ করছে, তারা এখন সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা কমপক্ষে সরকার তাদের বৈধতা দিচ্ছে। এটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি।”
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে জনগণের সামনে আরও একবার উন্মোচিত হলো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকৃত চরিত্র—যেখানে গোপনে পোষা মব-গোষ্ঠীকে এখন খোলাখুলিভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মব কার্যক্রমকে "প্রেশার গ্রুপ" আখ্যা দিয়ে মূলত উগ্রবাদী সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টাই হচ্ছে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
🧩 মূল পয়েন্টস:
- প্রেস সচিব মব সন্ত্রাসীদের বললেন “প্রেশার গ্রুপ”
- সরকার তাদের অংশীদার নয় বলে দাবি করলেও বক্তব্যে বারবার গড়মিল
- বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সরকারের গোপন পৃষ্ঠপোষকতার স্বীকারোক্তি
- সংবাদমাধ্যম ও জনগণের জন্য এটি একটি ভয়াবহ বার্তা
