কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘরের দরজা ভেঙে হিন্দু নারীর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ফজর আলী নামের এক বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ বলছে, আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে।
বাংলাদেশের রাজনীতির এক অন্ধকারতম দিক ফের সামনে এলো—যেখানে দলীয় পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।
কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক তরুণীকে ঘরের দরজা ভেঙে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে।
এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর পাঁচকিত্তা গ্রামে ২৬ জুন রাত ১০টার দিকে। ঘটনায় অভিযুক্ত ফজর আলীর বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, তিনি বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। সেই সুযোগে অভিযুক্ত ফজর আলী—যিনি এলাকায় বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে পদ প্রত্যাশী—রাত ১০টার দিকে দরজা খোলার জন্য চাপ দিতে থাকেন।
অস্বীকৃতি জানালে দরজা ভেঙে জোরপূর্বক ভেতরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে।
চাচি শ্বরসতী বর্মনের বয়ান অনুযায়ী, পূজোর অনুষ্ঠান চলাকালে পাশের বাড়ি থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনে তিনি আতঙ্কে পূজোর ভিড় থেকে লোকজন ডাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সজীব জানান, তারা ভাঙা দরজা ও ফজর আলীকে ধর্ষণের সময় হাতেনাতে দেখতে পান। এমন বর্ণনা কেবল একটি ধর্ষণ নয়, বরং এটি সাম্প্রদায়িক সংখ্যালঘু নারীকে রাজনৈতিক ছায়ায় ঘিরে ভয়ভীতির মধ্যে ফেলার চেষ্টা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ফজর আলী দীর্ঘদিন বিএনপির সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে নিজেকে “নেতা” দাবি করে আসছেন।
সে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। অথচ, রাজনৈতিক পরিচয় থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলেছেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—একজন দলীয় কর্মী কীভাবে এমন অপরাধ করে নির্ভয়ে এলাকায় বিচরণ করতে পারেন?
এবং এমন অপরাধের দায় দল নেবে কি না—তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগীর চাচা নকুল বর্মন বলেন,
“আজকে আমার ভাতিজিকে ধর্ষণ করেছে, কালকে হয়তো আমার মেয়েকে করবে। আমরা এখন খুব ভীত। বিচার না পেলে আমাদের আর ঠাঁই কোথায়?”
এই বক্তব্যে ভেসে উঠছে এক সংখ্যালঘু পরিবারের আতঙ্ক, যে আতঙ্ক আমাদের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন,
“ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করেছেন। আমরা অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছি।”
তবে, এটুকু বললেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি সত্যিই রাজনৈতিক পরিচয়ে আশ্রয় নিয়ে থাকে—তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতেই হবে এবং একই সাথে রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ ধরনের অপরাধীদের দায় থেকে মুক্ত করা উচিৎ নয়।
এই ঘটনা শুধু একটি ধর্ষণের মামলা নয়, বরং এটি স্পষ্ট করে যে—রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে একটি শ্রেণি দেশের নারী, সংখ্যালঘু ও সাধারণ মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।
এই জঘন্য অপরাধের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করা না গেলে, তা কেবল নারী নয়, পুরো সমাজকেই অনিরাপদ করে তুলবে।
