জামালপুরের ইসলামপুরে প্রশাসনের পরিচয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য রহিম মেম্বারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সন্ত্রাসের বিশ্লেষণ।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল জিগাতলা গ্রাম শনিবার গভীর রাতে পরিণত হয় এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মঞ্চে। প্রশাসনের লোকজন পরিচয়ে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে কুলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম মেম্বারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টার দিকে ১০-১২ জনের একটি দল বাড়ির গেটে আসে। তারা নিজেদের পুলিশ ও প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে রহিমকে বাইরে যেতে বলে। গ্রামাঞ্চলে এই ধরনের ভয়ভীতি ও প্রশাসনিক প্রভাবকে সাধারণ মানুষ যে কীভাবে মান্য করে, এই হত্যাকাণ্ড তার করুণ উদাহরণ। রহিম বাড়ির উঠানে আসার সঙ্গে সঙ্গেই হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পৈশাচিক আক্রমণ শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাড়ির অন্য সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। রাতভর ভয়ে-আতঙ্কে পরিবার ও প্রতিবেশীরা অসহায় অবস্থায় ছিলেন। স্থানীয় সূত্র বলছে, পুলিশের কাছে ফোন করা হলেও রাতের অন্ধকারে কেউ আসেনি। ভোর হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং লাশ উদ্ধার করে।
এই হত্যাকাণ্ডে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে।
• প্রথমত, হামলাকারীরা প্রশাসনের পরিচয় নিলে এবং বাড়ির মানুষ পুলিশকে ফোন করলেও কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো না?
• দ্বিতীয়ত, একজন ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচিত ইউপি সদস্যকে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যার পেছনে কি স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ কাজ করেছে?
• তৃতীয়ত, জামালপুরের চরাঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার দখল নিয়ে সংঘাতের যে সংস্কৃতি চলে আসছে, এই হত্যাকাণ্ড কি সেই প্রেক্ষাপটেরই ধারাবাহিকতা?
যদিও ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ স ম আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, “হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে,” কিন্তু গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ। তাদের বক্তব্য—যখন হামলা হলো, পুলিশ কোনো সাড়া দেয়নি। ফলে আইনশৃঙ্খলার ওপর মানুষের আস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন, চরের জমির দখল এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। প্রশাসনের নামে ‘ফেক পরিচয়’ ব্যবহার করে খুন করার ঘটনা আইনশৃঙ্খলার যে সঙ্কট তৈরি করেছে, তা দ্রুত সমাধান জরুরি।
একই সঙ্গে এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ভয় আরও বৃদ্ধি পাবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকড় কতটা গভীরে বিস্তৃত, জামালপুরের এই রাত তার আরেকটি বেদনাদায়ক প্রমাণ।
