কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মায়ানমার থেকে আসা অস্ত্রের মজুদ ও ছড়িয়ে পড়া জাতীয় নিরাপত্তার বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বিশ্লেষণ করছে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এর ভয়াবহ প্রভাব।
বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তজুড়ে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ার গহিন পাহাড় এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ঘিরে যে অস্ত্রের ছায়াযুদ্ধ শুরু হয়েছে, তার অভিঘাত শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই—তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের অভ্যন্তরে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে।
সাম্প্রতিক সময়ের পরিসংখ্যান, অভিযান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিবেদন স্পষ্ট করে বলছে—মায়ানমার থেকে ভারী অস্ত্র, রকেট লঞ্চার ও গ্রেনেড পর্যন্ত বাংলাদেশে ঢুকছে নিয়মিতভাবে।
এসব অস্ত্র গোপনে মজুদ হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন গহিন পাহাড়ে।
সর্বশেষ কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে টেকনাফ সীমান্তের জাদিমুরা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় –
- একটি বিদেশি রাইফেল
- দুটি বিদেশি পিস্তল
- তিনটি একনলা বন্দুক
- রাইফেল ও পিস্তলের ৩,১১৪ রাউন্ড তাজা গুলি
- এক কেজি আইস (মূল্য ৫ কোটি টাকা)
- চার লিটার দেশীয় মদ
- অপহৃত এক ব্যক্তি
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে র্যাব-১৫ উদ্ধার করেছে ১,২৭৯টি আগ্নেয়াস্ত্র।
গত ১৭ মাসে জেলার বিভিন্ন থানায় অস্ত্র আইনে করা হয়েছে ৩২১টি মামলা। শুধু চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই দায়ের হয়েছে ৭০টি মামলা।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে র্যাব-১৫ উদ্ধার করেছে ১,২৭৯টি আগ্নেয়াস্ত্র। গত ১৭ মাসে জেলার বিভিন্ন থানায় অস্ত্র আইনে করা হয়েছে ৩২১টি মামলা। শুধু চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই দায়ের হয়েছে ৭০টি মামলা।
এই মামলায় ২৩ জন রোহিঙ্গা আসামির ১৮ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছে—যা বিচারিক দুর্বলতা এবং আইন প্রয়োগে অসঙ্গতির বড় প্রমাণ।
সাবেক সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী সতর্ক করে বলেছেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্প এতদিন ইয়াবার ডিপো ছিল, এখন অস্ত্রেরও ডিপো হয়ে গেছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে।”
একইসাথে জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলার আমির ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী জানিয়েছেন, টেকনাফের কিছু দ্বীপ ও পাহাড়ে রয়েছে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর বড় আস্তানা, যেখানে মায়ানমার থেকে আনা অস্ত্র মজুদ হচ্ছে এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের অভ্যন্তরে।
নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র রাজনৈতিক সংঘর্ষ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, অপহরণ এবং চাঁদাবাজিতে ব্যবহারের আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশ্ব মানবতা বিবেচনায় আশ্রয় দেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি অংশ এখন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় পরিচালিত এই ক্যাম্পগুলোর একটি গোষ্ঠী ‘সশস্ত্র ব্যবসায়ী চক্র’ হিসেবে কাজ করছে—মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ নানা অপরাধে জড়িত।
রোহিঙ্গা ইস্যু এখন কেবল মানবিক সংকট নয়, পরিণত হয়েছে সশস্ত্র নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে।
এখন সময়—প্রবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমন্বিত গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা কৌশলের।
অন্যথায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শুধু রাজনীতির লড়াই নয়, হয়ে উঠতে পারে অস্ত্রের লড়াইয়ের ময়দান।
