ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধের পরও যখন ধর্ষক গর্বিতভাবে ঘুরে বেড়ায়, তখন প্রশ্ন জাগে—এই দেশে ন্যায়বিচারের ঠিকানা কোথায়? রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও বিচার ব্যবস্থার নাটকীয়তা কি ধর্ষকদের রক্ষা করছে?
৯ জুলাই ২০২৫
ধর্ষণের মতো নৃশংস, জঘন্য ও অমানবিক অপরাধের পরও যখন অপরাধী গর্বের সাথে বুক চিতিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তখন এ সমাজের নৈতিক কাঠামো, বিচারব্যবস্থা এবং নেতৃত্বের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—“এই দেশ কার?”
বিচারব্যবস্থা ও ক্ষমতার রাজনীতি
বাংলাদেশে ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এর চেয়েও ভয়ঙ্কর হলো—ক্ষমতার চাদরে আবৃত ধর্ষক।
দলীয় পরিচয়, রাজনৈতিক সংযোগ কিংবা ক্ষমতাধর পরিবারের ছত্রছায়া—এইসবই যেন ধর্ষকদের জন্য এক ধরনের অদৃশ্য ‘আইনি প্রোটেকশন’।
মামলা হয়, তদন্ত হয়, চার্জশিটও হয়তো জমা পড়ে, কিন্তু বিচার?
- কখনো ভিকটিমকে চাপ দেওয়া হয় মামলা তুলে নিতে
- কখনো অভিযুক্ত জামিনে মুক্ত হয়ে ‘সম্মানিত’ ব্যক্তি হিসেবে ফিরে আসে সমাজে
- আর বিচার চলে বছরের পর বছর—‘আদালতে সময় শেষ হয়ে গেছে, শুনানি পিছিয়ে গেছে’ এরকম নাটকীয়তায়
নারীদের ভীতিকর বাস্তবতা
আজ নারীদের পথ চলা আতঙ্ক আর শঙ্কায় পূর্ণ।
- স্কুলগামী মেয়ে থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী,
- গৃহবধূ থেকে শুরু করে কর্মজীবী নারী—
কেউ নিরাপদ নয়।
‘আমার মেয়ে নিরাপদ’—এই কথা কি আজ একজন বাবা নিঃসঙ্কোচে বলতে পারে?
আমরা শুধু শুনে যাচ্ছি—“বিচার হবে”। কিন্তু প্রত্যক্ষ করছি—ধর্ষক মুক্ত, ভুক্তভোগী একঘরে, সমাজে কলঙ্কিত।
সভ্যতা মানে নারীর নিরাপত্তা
একটা দেশ তখনই সভ্য হয়, যখন নারীরা সেখানে সম্মান নিয়ে পথ চলতে পারে, ভয় নয়।
কিন্তু আমরা কী দেখছি?
- ধর্ষক বিচার না পেয়ে সাহস পায় আরও অপরাধে
- ভুক্তভোগী নারী সমাজে হেয় হয়, বিচারের নামে হয়রানির শিকার হয়
- আর রাষ্ট্র নীরব, অসহায়
এমনকি অনেক সময় ধর্ষক রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে ‘নায়ক’ হয়ে ওঠে, যেন পুরো সমাজ এই অপরাধটিকে মান্যতা দিয়েছে।
এ সমাজে ন্যায়বিচারের ঘন্টাধ্বনি তখনই শোনা যাবে, যখন ধর্ষকরা দলীয় রঙ, ক্ষমতার ছায়া কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরে থেকে শাস্তি পাবে।
যেদিন ধর্ষকের জন্য সমাজে লজ্জা থাকবে, যেদিন ভুক্তভোগীর চোখে আত্মবিশ্বাস থাকবে—সেদিনই এই দেশ সত্যিকার অর্থে সভ্য হয়ে উঠবে।
