বিডিআর বিদ্রোহের আগের ও পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি, বিএনপি-জামায়াতের ভূমিকা, আইএসআই সংযোগ ও শেখ হাসিনার সংসদীয় বক্তব্য নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণ।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহ কেবল একটি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংঘাত ছিল না—এই ঘটনার ভেতরে ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, একটি রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তের গন্ধ। এই ভয়াল হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন, যার মধ্যে অধিকাংশই ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনকারী কর্মকর্তারা।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহ কেবল একটি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংঘাত ছিল না—এই ঘটনার ভেতরে ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, একটি রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তের গন্ধ। এই ভয়াল হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন, যার মধ্যে অধিকাংশই ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনকারী কর্মকর্তারা।
১৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির দূত জিয়া ইস্পাহানি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের অনুরোধ জানান। শেখ হাসিনা এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। ঠিক তিনদিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া তার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন।
প্রশ্ন উঠেছে: পাকিস্তান কেন এই সময়ে হস্তক্ষেপ করতে চাইছিল? কেন জামায়াত নেতা মুজাহিদ হঠাৎ দেশত্যাগের চেষ্টা করেন, যাকে ফেরত পাঠায় নিরাপত্তা বাহিনী?
অস্বাভাবিকভাবে বিডিআর বিদ্রোহের আগের দিন বিএনপি ঢাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের জড়ো করে সভা করে, যেখানে খালেদা জিয়া নিজে অনুপস্থিত ছিলেন। সভা শেষ হয় বিকেলে, আর রাত থেকেই শুরু হয় বিডিআরের ক্ষোভ সৃষ্টির অপপ্রচেষ্টা। এ যেন এক ‘প্রি-কোর্ডিনেটেড’ টাইমলাইন।
বিডিআর বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারী অনেক সদস্য বিএনপি আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত। এদের মধ্যে অন্তত ১৪ জনের নিয়োগে ডিও লেটার দিয়েছেন বিএনপির উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, যিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি। তার পাকিস্তানি আইএসআই সংযোগ এবং জঙ্গিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বাংলাদেশের ও ভারতের গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে।
তাহলে কি বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় থেকেই বিডিআরে একটি ‘রিজার্ভ ফোর্স’ গড়ে তোলা হচ্ছিল?
২০০৬ সালের রাজনৈতিক সংকটে সেনাবাহিনী যখন নিরপেক্ষ অবস্থান নেয়, তখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষুব্ধ হয়। পিলখানায় নিহত অধিকাংশ সেনা কর্মকর্তা ছিলেন সেই সময়ের ‘নিরপেক্ষতা রক্ষাকারী’। এটি নিছক কাকতালীয় না পরিকল্পিত প্রতিশোধ?
বিডিআর বিদ্রোহ কি শুধু একটি বিদ্রোহ, না কি ক্ষমতা হারানো একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ? পাকিস্তানের হস্তক্ষেপ, জামায়াত নেতার দেশত্যাগের চেষ্টা, তারেক রহমানের মধ্যরাতের ফোন, বিএনপি সভা—সবই কি এক সুতোয় বাঁধা?
এখন সময় এসেছে এই প্রশ্নগুলোর জবাব রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে খুঁজে বের করার, যেন শহীদ সেনাদের আত্মত্যাগ বৃথা না যায়।
