এক জামায়াত ঘনিষ্ঠ নেতার বিতর্কিত বক্তব্য—”আমরা একাত্তরের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলাম”—নিয়ে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এক জামায়াত-ঘনিষ্ঠ নেতার বিতর্কিত বক্তব্য।
অনানুষ্ঠানিক এক সভায় তাঁকে বলতে শোনা যায়—“আমরা শুধু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলাম।”এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলমান রাজনৈতিক মব সহিংসতার পেছনে কি তাহলে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধের সংস্কৃতি কাজ করছে?
রাজনৈতিক প্রতিশোধ না সন্ত্রাস? গত ১১ মাসে আওয়ামী লীগ এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর হামলা, খুন এবং গণপিটুনির ঘটনায় প্রায় ৪ হাজার প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের তীর মূলত জামায়াত, এনসিপি ও মব কালচারে প্রশ্রয় দেওয়া একটি স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক বলয়ের দিকে।
বক্তব্যদাতা জামায়াত ঘনিষ্ঠ নেতার নাম এখনো প্রকাশ না করলেও, তাঁর বক্তব্যে প্রকাশ্যেই উঠে এসেছে রাজনৈতিক সহিংসতাকে একধরনের ‘ঐতিহাসিক প্রতিশোধ’ হিসেবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা।
“এই বক্তব্য শুধু বিপজ্জনক নয়, বরং ১৯৭১-এ যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, তার উত্তরসূরিদের পক্ষ থেকে সহিংসতা বৈধ করার এক নতুন কৌশল।
এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য চরম হুমকি। “বাংলাদেশে মব জাস্টিস ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের কোনো জায়গা নেই।
একাত্তরের পরাজিত শক্তির এই প্রতিশোধের রাজনীতি জনগণ রুখে দেবে।”একটি রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিশোধ নয়, প্রয়োজন বিচার, জবাবদিহি ও সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস।
কিন্তু ইতিহাসের নামে নতুন সহিংসতার পথ খোঁজা যে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকতে পারে—সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে আমাদের সবাইকে
