ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুলের ভাই মির্জা ফয়সল আমীনের ওপর বিক্ষুব্ধ কর্মীদের হামলার চেষ্টা ও গাড়ি ভাঙচুর। ফল কারচুপির অভিযোগ ঘিরে দলে শৃঙ্খলা সংকট তীব্রতর।
দলীয় সম্মেলনেই নিজের ভাই নিরাপদ নন—বিএনপির ভেতরে কীসের সংকেত? বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই মির্জা ফয়সল আমীনের ওপর নিজ দলের বিক্ষুব্ধ কর্মীদের হামলার চেষ্টা এবং তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ফের একবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব কাঠামো।
শনিবার সন্ধ্যায় বালিয়াডাঙ্গীর সমিরউদ্দীন স্মৃতি কলেজ মাঠে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন শেষে এই ঘটনা ঘটে। দু’পক্ষের ভোটের ফল ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে চেয়ার ছোড়াছুড়ি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
শেষে মির্জা ফয়সলের গাড়িতে ভাঙচুর চালায় কিছু কর্মী।ভোটের ফল নিয়েই সহিংসতা, নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব?
সম্মেলনে গোপন ব্যালটে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সৈয়দ আলম ও আবু হায়াত নুরুন্নবী।
উভয়ে সমানসংখ্যক—২৪২টি করে ভোট পান।অভিযোগ উঠেছে, জেলা বিএনপির নেতারা ফল ‘কারসাজি’ করে সৈয়দ আলমকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
সেই ঘোষণাই মির্জা ফয়সল নিজে উপস্থিত থেকে নিশ্চিত করেন।
ফলাফলের এই যাচাইকরণকেই অনেকে দেখছেন ‘নেতৃত্বের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত’ হিসেবে—যার বিরুদ্ধে মাঠ পর্যায়ে এখন ক্ষোভ ফুঁসে উঠেছে।
দলীয় শৃঙ্খলার অবনতি নাকি পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা?বিএনপি নেতাদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় উত্তেজিত কর্মীদের একাংশ চেয়ার ছুড়ে মারে এবং গাড়িতে আঘাত করে।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—“যেখানে মহাসচিবের ভাইও নিরাপদ নন, সেখানে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।”
এই ঘটনাকে অনেকেই ‘বিএনপির শাসন কাঠামোর অভ্যন্তরীণ চোরাবালি’ হিসেবে দেখছেন,
যেখানে একের পর এক গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্ব সংকট সামনে চলে আসছে।
