সিরাজগঞ্জে উল্লাপাড়া সরকারি ভবন দখল করে জামায়াতে ইসলামীর অবৈধ কার্যালয় চালানোর অভিযোগ। মৌলবাদী শক্তির পুনরুত্থান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
বিশেষ প্রতিনিধিঃ স্বপ্নিল আর্য : ১৪ জুলাই ২০২৫
সিরাজগঞ্জে উল্লাপাড়া উপজেলার একটি সরকারি পরিত্যক্ত ভবনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাদের কার্যালয় চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী বিষয়টি স্বীকার করে বিডিনিউজকে জানান, “পরিত্যক্ত ভবনটি আমাদের নেতাকর্মীরা ব্যবহার করছেন, এটাকে দখল বলা ঠিক হবে না।”
তবে স্থানীয় প্রশাসন থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

শুধু পরিত্যক্ত নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির দখল!
সরকারি ভবনকে “পরিত্যক্ত” বলেই রাজনৈতিক দলীয় কার্যক্রম চালানোর অনুমতি পাওয়া যায় না—এই ব্যাপারে প্রশাসনের নিরবতা প্রশ্নবিদ্ধ।
বলা বাহুল্য, এটি শুধু অবৈধ দখল নয়—বরং রাষ্ট্রবিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন দ্বারা দখলদারিত্বের প্রকাশ্য ঘটনা।
সুদি ইউনুস ও মৌলবাদীদের নেপথ্য মদদ
সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সুদি আরব ও পশ্চিমা তহবিলপ্রাপ্ত ইউনূসপন্থী গোষ্ঠী জামায়াতে ইসলামীর উত্থানে অর্থায়ন ও কৌশলগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
এদের লক্ষ্য একটাই—বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে দেওয়া।
জামাতের ভূত ফিরছে?
যে জামায়াত একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত ও আইনিভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার পথে, তারাই এখন নতুন মোড়কে, নতুন কৌশলে—বাংলাদেশের ভেতরে আবার সংগঠিত হচ্ছে।
এদের কার্যালয় সরকারি ভবনে? তাহলে কি প্রশাসনও নীরব সমর্থন দিচ্ছে?
রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত
দেশ যখন উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে, তখন এই ধরণের দখল ও উগ্রবাদের প্রসার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
সরকার ও প্রশাসনের উচিত—এই অবৈধ দখলদারিত্ব তৎক্ষণাৎ উচ্ছেদ, এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সিরাজগঞ্জের এই ঘটনা নিছক একটি ভবনের দখল নয়—বরং একটি বড় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের প্রতিচ্ছবি।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও সংবিধান রক্ষায় এখনই প্রয়োজন সতর্কতা, সচেতনতা ও আইন প্রয়োগে কঠোরতা।
