আসিফ আকবরের বক্তব্যে উঠে এলো শহীদ জিয়ার সাধারণ মানুষের বিএনপির প্রাইভেট ক্লাবে রূপান্তর, সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও নেতৃত্ব সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ।
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর হঠাৎ করেই রাজনীতির অন্দরের এক গোপন দরজা খুলে দিয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপিকে তিনি অভিহিত করেছেন “প্রাইভেট ক্লাব” হিসেবে। শুধু অভিহিত নয়, যুক্তিও দিয়েছেন—চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট, নেতৃত্ব সংকট, মনোনয়ন বাণিজ্য ও পদ-বাণিজ্যের মত স্পর্শকাতর বিষয়ে তার খোলামেলা বক্তব্য এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল।
আসিফ তার পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন—যে বিএনপি শহীদ জিয়ার হাত ধরে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল, তা কি আজ কিছু প্রভাবশালী ধনীদের ব্যবসায়িক সত্ত্বা হয়ে গেছে? দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন ও পদ বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, এ কারণে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢুকে পড়েছে এক শ্রেণির ধনী ব্যবসায়ী, যাদের ‘মাসলম্যান’ বা লাঠিয়ালরা হয়ে উঠেছে দলের পদধারী চাঁদাবাজ।
তাঁর মতে, চাঁদাবাজির এই চক্রটি এখন বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিহ্নিত, এবং প্রয়োজন এখন থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করা।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকটের একটি বড় প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন আসিফ—দলটি কি সিন্ডিকেটের খপ্পরে নাকি নেতৃত্ব সংকটে? তিনি তুলে ধরেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ঘুরেফিরে একই চেহারা দেখার প্রবণতা, আর ঠিক একইরকম ‘চেহারা’ দেখেন বিএনপির প্রতিটি সাংগঠনিক জেলাতেও। এসব নেতা চিহ্নিত চাঁদাবাজদের ‘চেনেন’, কিন্তু ব্যবস্থা নেন না।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, সাংগঠনিক যোগ্যতা ছাড়াই এমপি-মন্ত্রীর সন্তানরা এমপি হচ্ছেন—এতে তৃণমূল স্তর থেকে নেতৃত্ব উঠে আসার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সামন্তবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি ত্যাগ না করলে বিএনপি জনগণের দল হিসেবে পুনরুত্থান ঘটাতে পারবে না বলে মত আসিফের।
সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য আসে তার এই বক্তব্যে—“পতিত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে মার্চ করা ব্যবসায়ীরা এখন পলাতকদের অ্যাকাউন্টেন্ট, অর্থাৎ চোরের মাসতুতো ভাই এখন বিএনপির বড় অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছে।” এখানে স্পষ্টতই ইঙ্গিত রয়েছে বিএনপির কিছু প্রবাসী নেতৃত্ব বা অর্থের জোগানদাতাদের দিকে, যারা দল পরিচালনার মূল নিয়ন্ত্রণে।
বিএনপিকে ভালোবেসেই এই তীব্র সমালোচনা করেছেন বলে দাবি করেন আসিফ আকবর। তার প্রত্যাশা—শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়া একটি “গণমানুষের বিএনপি” যেন আবার ফিরে আসে। তিনি লিখেছেন, “যে বিএনপিকে ভালবাসি, সে বিএনপি ফিরে আসুক।” শেষ করেছেন পরিচিত ভঙ্গিতে—“শহীদ জিয়া অমর হউন, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, ভালোবাসা অবিরাম।”
আসিফ আকবরের এই মন্তব্য একদিকে তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ, অন্যদিকে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলের অন্তর্দাহ ও সংকটের প্রতিফলন। বিএনপি যদি গণমানুষের রাজনীতিতে ফিরে যেতে চায়, তবে তাকে সবার আগে নিজের ভেতরের সিন্ডিকেট, পদবাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও নেতৃত্ব সংকটের হিসাব নিতে হবে।
কেননা, শিল্পীর কণ্ঠে উচ্চারিত প্রতিধ্বনি কেবল সংগীত নয়, মাঝে মাঝে তা হয়ে ওঠে একটি জাতির বিবেকের প্রতিচ্ছবি।
