গোপালগঞ্জে এনসিপি বিরোধী সংঘর্ষে নিহত ৪ জনকে সেনা প্রহরায় সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। এতে মানবাধিকার ও আইনগত প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত দাবি স্বজনদের।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি রক্ষার দাবিতে আয়োজিত নাগরিক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত চারজন সাধারণ মানুষের মরদেহ সেনা প্রহরায় এবং সুরতহাল ছাড়াই দাফন ও সৎকার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘন, আইনি প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় এবং রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন উঠেছে।
কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই দাফন?
সাধারণত, কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত এবং ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ হস্তান্তর আইনি বাধ্যবাধকতা। কিন্তু গোপালগঞ্জের নিহত চারজন—দীপ্ত সাহা, রমজান কাজী, সোহেল রানা ও ইমন তালুকদার—কারও ক্ষেত্রেই এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সেনাবাহিনী এবং পুলিশের কঠোর নির্দেশে দ্রুত দাফন করতে বাধ্য হন তারা।
স্বজনদের ক্ষোভ ও অভিযোগ
নিহতদের পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, জানাজা পড়ার সুযোগ পর্যন্ত পাননি তারা।
“সেনাবাহিনীর গাড়ি এসে বলল, তাড়াতাড়ি লাশ কবর দাও। কারও সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি,” — বলেন এক স্বজন।
অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, মরদেহ নেওয়ার সময় স্বজনদের হুমকি দেওয়া হয় এবং সেনা সদস্যরা তদারকি করেন পুরো দাফন প্রক্রিয়া।
সংঘর্ষের পটভূমি
গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যেখানে তাদের এক নেতা বঙ্গবন্ধুর সমাধি ভাঙার হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামলে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের পাশাপাশি সেনা সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
সংঘর্ষের দিন এবং নিহতরা
চারজন নিহত হন গুলিতে এবং হাসপাতালে পাঠানো আরও ৯ জনের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে চালক সুমন বিশ্বাসকে।
হাসপাতাল সূত্র মতে, নিহতদের শরীরে শুধু গুলির চিহ্ন নয়, বরং মারধরের ক্ষতও ছিল।
প্রশ্ন উঠছে আইনি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে
মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্টজনরা বলছেন,
“একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকলে তা রাষ্ট্রীয় সহিংসতার উদাহরণ হয়ে ওঠে।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা সহ আন্তর্জাতিক মহলেও এ ধরনের ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের চোখে দেখা হয়।
পর্যালোচনামূলক বিশ্লেষণ
এই ঘটনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও সংবিধানিক শর্ত—যেমন বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, মানবাধিকার, আইনের শাসন—হুমকির মুখে পড়েছে।
বিশেষ করে সাধারণ মানুষ যখন রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার হন এবং কোনো তদন্ত ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হয়, তখন সেটা সাংবিধানিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।
✅ প্রস্তাবনা:
- নিহতদের বিষয়ে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত
- সেনা ও পুলিশের ভূমিকা যাচাইয়ে সংসদীয় কমিটি গঠন
- আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণ গ্রহণ
- স্বজনদের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা
