গোপালগঞ্জে কারফিউ চলাকালে শিশুর জন্য দুধ আনতে গিয়ে পুলিশের লাঠিপেটায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সাগর আটক। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
গোপালগঞ্জে ইউনুস প্রশাসনের নির্দেশে চলমান অবৈধ কারফিউর মধ্যেই চরম মানবিক সংকটের চিত্র সামনে এসেছে। গতকাল (১৪ জুলাই) রাতে শিশুর জন্য দুধ আনতে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন স্থানীয় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সাগর (২৮)।কিন্তু রাস্তায় দায়িত্বরত পুলিশ তাকে থামিয়ে লাঠিপেটা করে, তারপর বেআইনিভাবে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে।
সাগরের স্ত্রী জানান, “আমার বাচ্চার জন্য দুধ আনতে গিয়েছিল সে। এখন আর খোঁজ নেই, কোথায় নিয়ে গেছে জানি না।” তার মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “ও তো কোনো রাজনীতি করে না, ও তো কাজ করে খায়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেনা, র্যাব ও পুলিশের যৌথ বাহিনী পুরো গোপালগঞ্জ শহরজুড়ে টহল দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে বিনা কারণে আটক করছে।
গোপালগঞ্জ বর্তমানে কার্যত একটি যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে সবকিছু মনিটর করা হচ্ছে বলেও গোপন সূত্রের দাবি।
সাগরের ঘটনাটি সাধারণ কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয় — বরং এটি ইউনুস নেতৃত্বাধীন সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নগ্ন উদাহরণ।
শুধুমাত্র দুধ আনতে বের হওয়ার অপরাধে একজন নাগরিককে এইভাবে পিটিয়ে গাড়িতে তুলে নেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
উল্লেখ্য, এর আগে আন্তর্জাতিক সংস্থা ICRF জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং এ ঘটনাকে “গণহত্যার প্রাথমিক স্তর” বলে অভিহিত করে। তারা একটি আন্তর্জাতিক তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে।
এই সরকারের অধীনে বাংলাদেশে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। এমন বর্বরতার কোনো বৈধতা নেই। সবকিছুর বিচার বাংলার জমিনেই হবে।
