গুলশানে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে টাকায় মোটরসাইকেল কেনার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনা ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা।
_মুক্তিবার্তা৭১
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে “সমন্বয়ক” পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে চাঁদার টাকায় কেনা একটি দামি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগ জানায়, আটককৃত ব্যক্তি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, ঠিকাদার এবং আবাসিক ভবন মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন।
অভিযোগ ও গ্রেপ্তার
ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী, ঠিকাদার এবং আবাসিক ভবনের মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছিলেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত কয়েক মাসে অন্তত ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করেছেন তিনি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, এসব টাকায় তিনি ৩ লাখ টাকার একটি স্পোর্টস মোটরসাইকেল কিনেছেন, যা ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মামলা দায়ের হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
এমন অপরাধের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তাদের দাবি, কেবল একজন ব্যক্তি নয়—রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একই ধরণের চাঁদাবাজি চলছে।
প্রশ্ন উঠছে, এরা কারা এবং কার পৃষ্ঠপোষকতায় এতদিন এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে?
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠিত করা বাংলাদেশের নগর জীবনের একটি পুরোনো সমস্যা।
অনেক ক্ষেত্রেই ভুয়া নেতা বা নামধারী ‘সমন্বয়করা’ প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে।
গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করছে, অপরাধীরা শুধু নিম্নবিত্ত এলাকায় নয়, বরং সর্বত্র প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
এই ঘটনাটি আবারও দেখালো—রাজনৈতিক পরিচয় যদি আইনের ঊর্ধ্বে থেকে অপরাধের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নয়, নাগরিক আস্থার জন্যও হুমকি।
অনেকেই মনে করছেন, যদি প্রকৃত পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে।
শেশকথা
গুলশানে চাঁদাবাজি করে গ্রেপ্তার হওয়া এই ব্যক্তি হয়তো একটি উদাহরণ মাত্র।
কিন্তু এর মাধ্যমে যে বাস্তবতা উঠে এলো, তা হলো—রাজনৈতিক প্রভাবের আড়ালে অপরাধীরা এখনো সক্রিয় এবং তারা অভিজাত এলাকাকেও ছাড় দিচ্ছে না। এই ঘটনাটি সরকারের জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ—শুধু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলেই হবে না, বরং এর পেছনের নেটওয়ার্ক ও পৃষ্ঠপোষকতাকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
