ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়াজ আহমেদের নিয়োগে সাদিক কায়েম ও জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন বিতর্ক। প্রবাসী সাংবাদিকের তথ্য-প্রমাণে উন্মোচিত হচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাবের চিত্র।
প্রবাসী সাংবাদিক শাহেদ , ছাত্র দলের কমিটি দেওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে রাতেই নেমে পড়ে শিবির কর্মীরা আর তাদের সাথেই প্রকাশ্যে ছাত্র রাজনীতির বিরোধীতা করেন স্বয়ং ভিসি নিয়াজ আহমেদও। ভিসিও কি তবে শিবিরের গুপ্ত রাজনীতির বাহক? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর নিয়াজ আহমেদের নিয়োগ ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিক শাহেদ তার সাম্প্রতিক ইউটিউব আলোচনায় দাবি করেছেন, এই নিয়োগের পেছনে রয়েছে জামায়াত-শিবির ঘনিষ্ঠ সাদিক কায়েমের সরাসরি প্রভাব।
শাহেদের বক্তব্য , নিয়াজ আহমেদের নিয়োগ হয় ২৭ আগস্ট, ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান এবং ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর।
প্রশ্ন উঠেছে—সরকার চূড়ান্ত করলেও কি আসল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জামায়াত-শিবিরের ঘনিষ্ঠ মহল?
কারণ নিয়োগের এক মাসের মাথায়, ২১ সেপ্টেম্বর, সাদিক কায়েম নিজেকে শিবিরের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন।
এই সময়ের সাদিক কায়েম ও ভিসি নিয়াজের একাধিক ছবি মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ক্যাম্পাসে, কখনো হাসপাতালে তাদের একসঙ্গে দেখা যায়।
সাংবাদিক শাহেদের মতে, এসব প্রমাণই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নতুন কমিটি ঘোষণা করলে ভিসি নিয়াজ প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেন।
অথচ ভিসির এই বিরোধিতায় শিবির কর্মী ও সমর্থকদের সমর্থন পাওয়া যায়। শাহেদের ভাষায়, “ নিয়াজ হয়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গুপ্ত উপাচার্য—
যিনি নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করেন, কিন্তু কর্মকাণ্ডে স্পষ্ট রাজনৈতিক পক্ষপাত দেখান।”
এছাড়া তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশংসা সংবলিত নিয়াজ আহমেদের একটি ভিডিও ক্লিপও সামনে আনেন,
যা তার মতে ভিসির দ্বৈত রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে।
সবশেষে সাংবাদিক শাহেদ বলেন, “২৭ আগস্টের নিয়োগ যদি সত্যিই সাদিক কায়েমের হাত দিয়ে হয়ে থাকে,
তবে তা শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে গুপ্ত রাজনীতির গভীর শেকড়ের প্রমাণ দিচ্ছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহল এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখালেও, নিয়াজ আহমেদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ এখনো নেই।
