সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে ৪৮.৫% ভোটার নাকি সিদ্ধান্ত নেননি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন—এই অংশের বড় অংশই আওয়ামী লীগপন্থী, যারা রাজনৈতিক ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে প্রকাশ্যে মত দিচ্ছেন না।
সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রশ্নে ৪৮.৫% মানুষ নাকি এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। অথচ গত বছরের অক্টোবরে এই সংখ্যা ছিল ৩৮%। সাধারণ চোখে দেখলে মনে হতে পারে—রাজনৈতিক বিভক্তি ও অনিশ্চয়তার কারণে সিদ্ধান্তহীনতা বেড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ‘সিদ্ধান্তহীন’ আসলেই কি নিরপেক্ষ মানুষ, নাকি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাধ্যতামূলক নীরবতা পালনকারীরা?
পর্যবেক্ষণ বলছে—
এরা মোটেও সিদ্ধান্তহীন নয়।
বরং এদের বড় অংশই আওয়ামী লীগ সমর্থক।
যারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিএনপি-জামাত-এনসিপির কর্মকাণ্ড এবং সরকারের বিরুদ্ধে সংঘটিত নানা অপপ্রচারের পর আরও নিশ্চিত হয়েছেন যে তারা আওয়ামী লীগকেই ভোট দেবেন।
কিন্তু প্রকাশ্যে তা বলা এখন ঝুঁকিপূর্ণ।
ভাবুন,
আপনি একজন আওয়ামী লীগ সমর্থক।
হঠাৎ এক অপরিচিত ব্যক্তি এসে আপনাকে রাজনীতি ও ভোটের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করল।
আপনার প্রথম সন্দেহই হবে—সে হয়তো তথ্য সংগ্রহ করছে, এই এলাকায় কারা আওয়ামী লীগপন্থী তা জানার জন্য।
যেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, ব্যবসা ধ্বংস, গণপিটুনি, এমনকি নির্বিচারে গ্রেপ্তারের খবর প্রতিদিন আসছে—সেখানে কি আপনি সরাসরি বলবেন, “আমি আওয়ামী লীগকে ভোট দেব”?
বেশিরভাগ মানুষ নিরাপদ উত্তরই দেবেন—“এখনো ঠিক করিনি।”
শুধু ভয়ের কারণে নয়, আইনি অনিশ্চয়তাও এখানে ভূমিকা রাখছে।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া আদালতে চলছে—এমন পরিস্থিতিতে সমর্থকদের মনে প্রশ্ন থেকেই যায়:
দলটি কি আদৌ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?
এই অনিশ্চয়তা তাদেরকে ‘সিদ্ধান্তহীন’ হিসেবে জরিপে চিহ্নিত করছে।
জরিপে বলা হয়েছে,
৭.৩% ভোটার খোলাখুলিভাবে বলেছেন—তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেন।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটাই বিশাল সাহসের পরিচয়।
যেখানে দলের নাম নিলেই গ্রেপ্তার, হামলা ও সামাজিক বয়কটের ঝুঁকি আছে, সেখানে বুক চিতিয়ে মত জানানো সহজ নয়।
এই মানুষগুলো প্রমাণ করেছেন—আদর্শে অটল থাকার জন্য সাহস দরকার।
আমার ব্যক্তিগত ধারণা, জরিপের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ আছে।
ইতিহাস বলছে—
বাংলাদেশে রাজনৈতিক জরিপের বড় অংশই পূর্বনির্ধারিত উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সাজানো হয়।
এই ধরনের জরিপ রাজনৈতিক মনোবল ভাঙা, ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং নির্বাচনী কৌশল গোপনে চালানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
‘সিদ্ধান্তহীন’ ভোটার আসলে কারা—তা বোঝার জন্য শুধু সংখ্যার দিকে তাকানো যথেষ্ট নয়।
এর পেছনের সামাজিক ভয়, রাজনৈতিক চাপ এবং আইনগত অনিশ্চয়তা বুঝতে হবে।
জরিপের পরিসংখ্যান যতই নিরপেক্ষ দাবি করুক, বাস্তবতা প্রায়শই তার চেয়ে বেশি জটিল এবং গভীর।
