সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর ধ্বংসের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার ও পরিবেশ উপদেষ্টাকে সমালোচনা করলেন সাংবাদিক নাজনীন মুন্নী। পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যর্থতার প্রশ্ন তুললেন তিনি।
ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর ধ্বংস নিয়ে তীব্র ক্ষোভ সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকা থেকে অবাধে পাথর উত্তোলনের ঘটনায় সমালোচনার ঝড় বইছে। দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থানটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরিবেশ কর্মীরা। এবার এই সমালোচনায় যোগ দিলেন সাংবাদিক নাজনীন মুন্নী।
অন্তর্বর্তী সরকারকে কড়া প্রশ্ন
নিজের ফেসবুক পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারকে ইঙ্গিত করে নাজনীন মুন্নী লিখেছেন— “পাথরই রক্ষা করতে পারেন না, ভোট রক্ষা করবেন কেমন করে?”
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে জানান, কখনো ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরে না গেলেও জায়গাটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার খবর তাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।
“জায়গাটা কিছু রাক্ষস খেয়ে ফেলেছে। আর কোনোদিনই ঐ জায়গাটা ফিরে আসবে না। আমার ঠিক স্বজন হারানোর মতো মন খারাপ হচ্ছে।”
পরিবেশ উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মুন্নী পরিবেশ নিয়ে আজীবন কাজ করা উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রকাশ্যে বছরের পর বছর ধরে পাথর লুট হওয়া সত্ত্বেও উপদেষ্টার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
তার মন্তব্য—
“কোনো দলের জেলা কমিটির সভাপতি যদি সরকারে চেয়ে ক্ষমতাবান হন এবং উপদেষ্টা সেটা স্বীকার করেন,
লজ্জা আমাদেরই লাগে। ক্ষমতার চেয়ারে বসলে সবাই একই—অন্ধ, কালা, বধির, আপসকামী, দায়হীন।”
পরিবেশ ধ্বংস বনাম ক্ষমতার রাজনীতি
নাজনীন মুন্নীর পোস্টে স্পষ্ট হয়েছে, ভোলাগঞ্জের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস শুধু পরিবেশগত বিপর্যয় নয়, বরং রাজনৈতিক উদাসীনতারও প্রতিফলন।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে সেন্ট মার্টিনের প্রবাল রক্ষায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে, সেখানে সাদা পাথর রক্ষায় কেন এত উদাসীনতা?
ধ্বংসের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, পরিবেশ সুরক্ষা কেবল বক্তৃতা বা এনজিও প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকলে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়।
নাজনীন মুন্নীর এই সমালোচনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
